গ্ল্যামারের আড়ালে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের জীবনের কঠিন তিন অধ্যায় ও সংগ্রামের গল্প

বলিউডের রুপালি পর্দায় যার উজ্জ্বল উপস্থিতি আর হাসিমুখ মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়, তিনি হলেন গ্ল্যামারাস ডিভা জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। ২০০৯ সালে ‘আলাদিন’ ছবির মাধ্যমে শোবিজে পা রাখার পর ‘কিক’, ‘জুড়বা ২’ কিংবা ‘রেস ৩’-এর মতো একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই শ্রীলঙ্কান সুন্দরী। কিন্তু তার এই সাফল্যের ঝকঝকে আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ সংগ্রামের এক দীর্ঘশ্বাসময় ইতিহাস, যা অনেক অনুরাগীর কাছেই অজানা।
সফলতার শিখরে পৌঁছানোর পথটা জ্যাকলিনের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০০৬ সালে ‘মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কা’ খেতাব জয়ের পর স্বপ্নজয়ের নেশায় ভারতে পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু বলিউডের মতো প্রতিযোগিতামূলক ইন্ডাস্ট্রিতে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে জায়গা করে নিতে তাকে পোহাতে হয়েছে নানামুখী মানসিক চাপ ও কঠোর সমালোচনা। হিন্দি উচ্চারণের জড়তা এবং শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি শুনতে হয়েছে অহরহ। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয়ের অডিশনে নাক কিংবা ঠোঁটে প্লাস্টিক সার্জারি করানোর মতো আপত্তিকর পরামর্শও হজম করতে হয়েছিল তাকে। তবে সব নেতিবাচকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের জোরে তিনি আজ বলিউডের অপরিহার্য এক নাম।
তবে জ্যাকলিনের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়টি শুরু হয় ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলার সাথে তার নাম জড়িয়ে পড়ার পর। বিতর্কিত ব্যবসায়ী সুকেশ চন্দ্রশেখরের সাথে সম্পর্কের গুঞ্জন তাকে ফেলেছিল চরম আইনি ও সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি’র দীর্ঘ জেরার মুখে পড়া, বিলাসবহুল উপহার বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন তিনি। এই দুঃসময়ে অনেক পেশাদার চুক্তি হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি তথাকথিত বলিপাড়ার অনেক বন্ধুকেও তিনি হারিয়েছিলেন, যা তাকে প্রবল একাকিত্ব ও মানসিক ট্রমার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ কয়েকবার হৃদয়ভঙ্গের শিকার হতে হয়েছে এই রূপসীকে। পরিচালক সাজিদ খানের সাথে তার সম্পর্কের তিক্ত পরিণতি, বিশেষ করে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের বিষয়টি একসময় বি-টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এরপর বাহরাইনের রাজপরিবারের সদস্যের সাথে নাম জড়ালেও সেই সম্পর্কও থিতু হতে পারেনি। সব মিলিয়ে একের পর এক ব্যর্থ প্রেম এবং আইনি জটিলতার ঘূর্ণিপাকে পড়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
এত চড়াই-উতরাই আর অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়েও জ্যাকলিন আজ নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। সব আঘাত আর বিতর্ককে পেছনে ফেলে কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন এই লড়াকু অভিনেত্রী। তার জীবনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প কেবল গ্ল্যামার দুনিয়ার লড়াই নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনুপ্রেরণামূলক আখ্যান। জন্মদিনে এই শ্রীলঙ্কান কুইনের প্রতি রইল অঢেল শুভকামনা।
