AdvertisementAdvertisement

সালমান শাহ ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ এবং কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা শাবনূরের রসায়ন আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায়। পর্দায় তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেমন দর্শকদের বিমোহিত করত, তেমনি রুপালি পর্দার বাইরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলেছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সালমান শাহর অকাল প্রয়াণের পর থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প ডালপালা মেললেও, এবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন খোদ প্রয়াত নায়কের মা নীলা চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শাবনূরের সঙ্গে তাঁর ছেলের প্রেমের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

দীর্ঘদিন ধরে চলা গুঞ্জনকে নস্যাৎ করে নীলা চৌধুরী জানান, সালমান শাবনূরকে নিজের আপন বোনের মতো স্নেহ করতেন। তাঁর কথায়, সালমানের কোনো বোন না থাকায় সে শাবনূরকে পরম আদরে আগলে রাখত। সালমান শাবনূরকে কেবল একজন সহশিল্পী হিসেবে নয়, বরং পরিবারের একজন হিসেবেই দেখতেন। শাবনূরকেও তিনি সেই স্নেহের চোখেই দেখতেন এবং প্রয়োজনে সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তবে নীলা চৌধুরীর মতে, শাবনূর মাঝে মাঝে এমন আবহ তৈরি করতেন যেন তাঁদের মধ্যে বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে নানা রং চড়িয়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শাবনূর বরাবরই এই গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সালমান ছিলেন তাঁর কাছে বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। শাবনূরের ভাষ্যমতে, কিছু অসাধু মহল এবং সংবাদমাধ্যম তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দাবি করেন, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গেও তাঁর চমৎকার বন্ধুত্ব ছিল এবং শুটিংয়ের ফাঁকে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের মতোই আড্ডা ও আনন্দময় সময় কাটাতেন। এমনকি কক্সবাজারের শুটিংয়ের মতো স্মৃতিময় দিনগুলোতে দুই পরিবারই একসঙ্গে সময় কাটাত, যা তাঁদের সুসম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা সালমান শাহ তাঁর ক্ষণজন্মা ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ১৪টি সিনেমাতেই তাঁর বিপরীতে ছিলেন শাবনূর। ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই জুটির রসায়ন ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছে। পর্দায় তাঁদের চোখের ইশারা বুঝে নেওয়ার নিখুঁত বোঝাপড়াই মূলত এই জুটিকে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটির আসনে বসিয়েছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সালমান শাহর অকাল মৃত্যুর তিন দশক পার হয়ে গেলেও তাঁকে ঘিরে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন আজও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। নীলা চৌধুরীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনের ওপর একটি পূর্ণচ্ছেদ টানার ইঙ্গিত দিলেও, সালমান ও শাবনূরের সেই অনবদ্য পর্দার রসায়ন চিরকালই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

0%
0%
0%
0%