AdvertisementAdvertisement

কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ বিস্তার, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ রূপ নেওয়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত সময়কাল নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা শনাক্ত করা হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। শুরুর দিকে ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড ভেবে অনেক রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ জানাবি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভাইরাসটির গতিবিধি আমাদের প্রচেষ্টার চেয়েও দ্রুততর। বর্তমানে কঙ্গোতে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ২০০ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৯০০ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই প্রাদুর্ভাবের গতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও’ ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। সংক্রমণের শুরুতে সাধারণ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করায় প্রকৃত রোগ শনাক্তে দেরি হয়েছে। এছাড়া বেতন না পাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা কুসংস্কার পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

दुर्गম এলাকা, কাঁচা রাস্তা এবং সুরক্ষা সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর ওপর বাস্তুচ্যুত বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য বিশুদ্ধ পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও, বর্তমানের প্রাদুর্ভাবটি অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেইসাস জানিয়েছেন, রাজধানী কিনশাসায় কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকায় আক্রান্তের হার দ্রুত দ্বিগুণ হচ্ছে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার ‘এরভেবো’ টিকার পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সুপারিশ করেছে। যদিও এই টিকা মূলত ইবোলার ‘জাইরে’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর, তবে প্রাথমিক তথ্য বলছে এটি বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। বর্তমানে বান্দিবুগিও ভাইরাসের নির্দিষ্ট প্রতিষেধক তৈরির লক্ষ্যে দুটি সম্ভাব্য টিকার পরীক্ষা চলমান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%