AdvertisementAdvertisement

হোয়াইট হাউসের নতুন আইন উপদেষ্টা হিসেবে উইল শার্ফকে মনোনীত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং হোয়াইট হাউসের বর্তমান স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফকে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রধান আইন উপদেষ্টা বা হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বর্তমান কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ব্যক্তিগত কর্মজীবনে ফেরার লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় শার্ফকে ‘দৃঢ়, শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর প্রশংসা করেছেন।

উইল শার্ফ দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাম্পের আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২৩ সালে তিনি ট্রাম্পের আইনি দলে যোগ দেন এবং বিশেষ কাউন্সেল জ্যাক স্মিথের দায়ের করা ফেডারেল নির্বাচন হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত মামলায় কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট যখন প্রেসিডেন্টদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক দায়মুক্তির ঐতিহাসিক রায় দেয়, তখন শার্ফ আইনি লড়াইয়ের অগ্রভাগে ছিলেন। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানা এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় বসার পর থেকে শার্ফ হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে আসা নথিপত্র ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় পর্দার আড়ালে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। এসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর এই নিয়োগ ট্রাম্পের এমন আইনজীবীদের পুরস্কৃত করার ধারাবাহিকতাকে আরও স্পষ্ট করেছে, যারা অতীতে সরাসরি প্রেসিডেন্টের হয়ে আইনি যুদ্ধ লড়েছেন। এর আগে টড ব্লাঞ্চকে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জন সাউয়ারকে সলিসিটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শার্ফের দায়িত্ব গ্রহণের সময়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এমতাবস্থায় শার্ফকে একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিতর্কিত প্রকল্পের আইনি সুরক্ষার দায়িত্বও সামলাতে হবে। জুলাই মাসে ট্রাম্প তাঁকে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন, যা পরে হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বলরুম নির্মাণের অনুমোদন দেয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই বলরুম প্রকল্পটি বর্তমানে আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, একটি ফেডারেল আপিল আদালত সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের মূল কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রয়োজন বলে রায় দিয়েছে। এই রায়ের ফলে বলরুমটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে। শার্ফ এর আগে দাবি করেছিলেন যে, কমিশনের হাতে নির্মাণের ক্ষমতা থাকলেও ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়টি ভিন্ন। এখন নতুন পদে বসে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%