AdvertisementAdvertisement

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আস্থার সংকট

ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির ইহুদি জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭০ শতাংশই আশঙ্কা করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ক্ষমতার দাপটে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন নেতানিয়াহু, তবে তার সরকারের কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর কালো ছায়া ফেলেছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৪৩ শতাংশ নাগরিক দেশটির গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিরোধীদের পাশাপাশি স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। জুলাই মাসের মাঝামাঝি এক টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট হারজোগ রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা অতিক্রম না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কোনো গৃহযুদ্ধ নয়, বরং একে কেন্দ্র করে বিভাজন বা সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিচারিক তদারকি এড়িয়ে যাওয়া এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাস পরিচালিত অনুপ্রবেশের ঘটনার স্বাধীন তদন্ত বিলম্বিত করার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে বহুমুখী সংঘর্ষের কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেসেটের সদস্য ওফার কাসিফ আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা এখন দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং সরকারি ছত্রছায়ায় উগ্রপন্থীরা ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করার ক্ষেত্রেও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বাজেট ৫০ মিলিয়ন নতুন ইসরায়েলি শেকেল বা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমিয়ে দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন, যা বিদেশি হস্তক্ষেপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাকে খর্ব করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়া নির্বাচনের ঠিক আগে বিদেশ থেকে ভোটারদের দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ করতে পরিবহন মন্ত্রণালয় নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যাতে সরকারবিরোধী ভোট হ্রাস পায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নেতানিয়াহুর নিজের দলের ভেতর থেকেও কিছু নেতা বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লিকুদ পার্টির সদস্য অভিচে বুয়ারন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে ডিন লিভনের নিয়োগকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে, বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গের মতে, এবারের নির্বাচন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই জোট যদি পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, তবে তা ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধবাজ ও বিতর্কিত নীতিগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার শামিল হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%