ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর গাজায় নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার রূপরেখা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস ‘পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ’ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান গাজায় চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ গত জুলাই মাসের শেষদিকে গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি ফেরাতে এই ১৫ দফার কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছিল। এর আওতায় হামাসকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হতো এবং বিনিময়ে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ছিল। এই প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে ছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা ২৮০৩ অনুযায়ী গঠিত শান্তি পর্ষদ। তবে নেতানিয়াহুর দাবি, হামাসের এই নিরস্ত্রীকরণ হতে হবে প্রকৃত, কোনো কাল্পনিক বা নামমাত্র প্রক্রিয়া নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহু এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের কট্টরপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখতে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ নীতি বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর এই অনড় মনোভাব মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শান্তি চুক্তির বিপরীতে তার এই প্রত্যাখ্যানের ফলে গাজায় শত্রুতা অবসানের কোনো সুস্পষ্ট পথ আপাতত দৃশ্যমান নয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানানো হয়েছে। একদিকে ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধের সমাপ্তি চাইলেও, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী উল্টো শর্তারোপ করে বলছেন, তাদের বাহিনী হামাসের হুমকি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাভিয়ের আবু ঈদ মনে করেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি মূলত ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার একটি হাতিয়ার ছিল, যেখানে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। একই সাথে সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করার পেছনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবেই তিনি শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছেন, যা গাজাবাসীর জন্য নতুন কোনো সুখবর বয়ে আনছে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
