অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান: কালান্দিয়ায় আহত ৫১ জন, গণগ্রেপ্তার অব্যাহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর এক ব্যাপক অভিযানে অন্তত ৫১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই অভিযানে ইসরায়েলি সেনারা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক দোকান গুঁড়িয়ে দেয় এবং কাফর আকাব শহরে কারফিউ জারি করে। এলাকাটির সঙ্গে জেরুজালেমের সংযোগকারী সব সড়ক বন্ধ করে দিয়ে সেখানে কঠোর সামরিক অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৩৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ছয়জন ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের শরীরে রাবার কোটেড স্টিল বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগেছেন আরও অন্তত ছয়জন। রেড ক্রিসেন্ট আরও অভিযোগ করেছে, বুধবার রাত থেকেই তাদের অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের আহতদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যদিও চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও ডায়ালাইসিসের রোগীসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
অভিযান চলাকালীন সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে ইসরায়েলি সেনারা তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় বাড়িঘর দখল করে সেগুলোকে অস্থায়ী জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয় এবং নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়। একই দিনে জেনিন শহরেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একজন ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অপর একজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের ১১ হাজারেরও বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এসব হামলার জেরে অন্তত ২ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘ নিযুক্ত তদন্ত কমিশনের জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পিত হামলা ঠেকাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সেনাসদস্যরা সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। স্মোত্রিখ ইতোমধ্যে ১০৪টি অবৈধ বসতি ও ১৬০টি কৃষিভিত্তিক স্থাপনার অনুমোদন দিয়েছেন, অন্যদিকে বেন-গভির রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হাজার হাজার আগ্নেয়াস্ত্র বিলিয়েছেন বসতি স্থাপনকারীদের মাঝে। এর আগে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বা আনরোয়া-এর কার্যক্রম জেরুজালেমে নিষিদ্ধ করে তাদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলো বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সরকারি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় জড়িত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সীমিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
