সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১০০ বিলিয়ন ডলার আমদানি শুল্ক ফেরত দিল মার্কিন প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশনার পর বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক বাবদ আদায়কৃত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আমদানিকারকদের ফেরত দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। জরুরি ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে কয়েক ডজন বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করেন। এরই প্রেক্ষিতে শুল্কের এই বিশাল অঙ্ক ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ (সিবিপি)।
তথ্যাদি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে আদালতের ৬-৩ ব্যবধানের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অবৈধ ঘোষিত হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করা হয়েছিল। মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মঙ্গলবার দাখিল করা একটি নথিতে সিবিপি জানিয়েছে, “সম্ভাব্য এবং প্রত্যয়িত ফেরত” হিসেবে চিহ্নিত ১২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলারের তিন-চতুর্থাংশের বেশি অর্থ ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিবিপির বাণিজ্য নীতি ও কর্মসূচি বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ব্র্যান্ডন লর্ড জানান, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই অর্থ নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে।
আদালত তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছিলেন যে, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার করে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর ফেন্টানিল-সংক্রান্ত শুল্ক এবং আরও ৯০টির বেশি দেশের ওপর “পারস্পরিক” শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে সে সময় তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রায় প্রদানকারী ছয়জন বিচারপতিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির “অযোগ্য” ও “আজ্ঞাবহ” বলেও কটূক্তি করেছিলেন তিনি।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের অধীনে ইস্পাত, মোটরগাড়ি ও তামার মতো নির্দিষ্ট কিছু খাতের ওপর আরোপিত শুল্ককে বাতিল করেনি। সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে বিচারিক এই ধাক্কার পরেও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত সোমবার নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও কলোরাডোসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের করেছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট যে শুল্ক বাতিল করেছিলেন, তা ভিন্ন অজুহাতে পুনরায় চাপিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
