AdvertisementAdvertisement

শহীদ পরিবারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে আইজিপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড়

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের বিতর্কিত মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের চিত্র সঠিকভাবে উঠে আসেনি—এমন অভিযোগে মিলনায়তনে উপস্থিত স্বজন ও যোদ্ধারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ শুরু করলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ যখন ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বিক্ষোভকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, “স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে?”

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আইজিপির এমন অসংবেদনশীল ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ হাত উঁচিয়ে তাকে নিবৃত করেন এবং কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। তবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি মুহূর্তেই ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনকারীদের প্রতি ‘এগুলো’ সম্বোধন করায় পুলিশের পেশাদারিত্ব ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সতেরো বছরেও পুলিশের কার্যক্রমে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। সমালোচকদের মতে, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, তাঁদেরই এমন অপমানজনক মন্তব্যের সম্মুখীন হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসীন একজন কর্মকর্তার এমন আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রটোকল নিয়েও জনমনে নানাবিধ সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান সরকারের অধীনে নতুন বাংলাদেশে পুলিশের এমন বিতর্কিত ভূমিকা এবং জনগণের প্রতি অবজ্ঞাসূচক মনোভাব নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং অনেকেই আইজিপির এমন আচরণের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

0%
0%
0%
0%