হরমুজ প্রণালীতে নৌপথের স্থানাঙ্ক নির্ধারণে ইরান ও ওমানের সমঝোতা

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিরাপদ ও সুসংহত করার লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে চলা আলোচনার প্রেক্ষিতে নতুন ট্রানজিট রুট বা নৌপথের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নির্ধারণে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বর্তমানে এই সমঝোতার চূড়ান্ত খসড়া তৈরির কাজ চলছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানান, সামুদ্রিক চলাচলের প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই ওমানের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নৌপথের বড় একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে এবং কিছু অংশ ওমানের জলসীমা অতিক্রম করবে। সাময়িক এই রুটটি দুই থেকে চার মাস কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বিঘ্নিত হয়েছে, যা জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন সামরিক আগ্রাসন এবং জায়নবাদী শাসনের হুমকির কারণেই প্রণালীটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা।
তবে এই সমঝোতাকে প্রণালীটি পুরোপুরি নিরাপদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন বাঘাই। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং ইরানের স্বার্থবিরোধী আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া কঠিন। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর ওপর অবরোধ আরোপের অংশ হিসেবে তারা ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে, দুটি জাহাজ অকেজো করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলি আকবর দারেয়ানি আলজাজিরাকে জানান, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা। তার মতে, যুদ্ধের ময়দানে অর্জিত এই সামরিক সাফল্য বিসর্জন দেওয়ার জন্য তেহরান আলোচনা করছে না, বরং অর্জিত অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করাই তাদের কৌশলগত লক্ষ্য। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা বরাবরই ঘোষণা দিয়ে আসছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একক কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না ওয়াশিংটন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
