কাটছাঁট ছাড়াই ছাড়পত্র পেল সানি দেওলের বাটোয়ারা ১৯৪৭

মুক্তির প্রহর গোনা শুরু হতেই বিনোদন পাড়ায় ঝড় তুলেছে সানি দেওল অভিনীত আসন্ন চলচ্চিত্র ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’। আমির খানের প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের ব্যাপক কৌতূহল। সেন্সর বোর্ডের কাঁচি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে ছবিটি ‘এ’ সার্টিফিকেট পাওয়ায় চলচ্চিত্রটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক আলোচনার জন্ম। একটি দৃশ্য কিংবা সংলাপও কর্তন ছাড়াই ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা রাজকুমার সন্তোষী জানালেন এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
পরিচালকের স্পষ্ট বক্তব্য, নির্মাতারা নিজেরা কোনোভাবেই ‘এ’ সার্টিফিকেট চেয়ে নেননি, এটি একান্তই সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনের সিদ্ধান্ত। রাজকুমার সন্তোষী জানান, তাঁরা প্রাথমিকভাবে ‘ইউ/এ’ সার্টিফিকেটের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে সেন্সর বোর্ড জানায়, সে ক্ষেত্রে ছবির বেশ কিছু দৃশ্যে কাঁচি চালাতে হতো। কিন্তু বোর্ডের সদস্যরা চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলীতে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে, কোনো দৃশ্য বা সংলাপের পরিবর্তনের পক্ষপাতী ছিলেন না তাঁরা। তাই ছবির মূল নির্যাস অক্ষুণ্ণ রাখতে নির্মাতারা ‘এ’ সার্টিফিকেট মাথা পেতে নিয়েছেন।
দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় সানি দেওলের পাশাপাশি অনবদ্য অভিনয়ে দেখা যাবে শাবানা আজমি, প্রীতি জিন্টা, অভিমন্যু সিং, করণ দেওল এবং আলি ফজলের মতো তারকাদের। পরিচালকের মতে, এই ছবির মূল লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া নয়, বরং দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি মানবিক গল্পের আবহে ভাসিয়ে নেওয়া। এখানে চরিত্রগুলো হিন্দু বা মুসলিম পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিছক মানুষ হিসেবেই ধরা দেবে দর্শকদের কাছে।
‘লাহোর ১৯৪৭’ শিরোনামে দীর্ঘদিনের জল্পনার ইতি টেনে রাজকুমার সন্তোষী জানান, সেটি ছিল কেবল একটি ওয়ার্কিং টাইটেল। দেশভাগের সময়ের বীরত্ব ও ভয়াবহতার দ্বৈত রূপ ফুটিয়ে তোলাই ছিল এই ছবির মূল উদ্দেশ্য। এ আর রহমানের জাদুকরী সুর এবং জাভেদ আখতারের কথায় সাজানো এই সিনেমাটি আগামী ১৪ আগস্ট রূপালি পর্দায় দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সানি দেওলের এই নতুন অবতার দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।
