আজাদ কাশ্মীরে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, মুজাফফরাবাদ ও শরণার্থী আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মুজাফফরাবাদ বিভাগে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে নির্বাচন কমিশন ভোটদানের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল। ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে ভোট গণনার প্রক্রিয়া।
মুজাফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসন এবং কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের জন্য সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মুজাফফরাবাদ বিভাগের আসনগুলোতে ২০৮ জন এবং শরণার্থী আসনগুলোতে ১৪৩ জনসহ মোট ৩৫১ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ১ হাজার ৪৮৩টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ হাজার ২১৯টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর মধ্যে এলএ-২৮, এলএ-২৯ ও এলএ-৩১ আসনগুলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এসব এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল।
২৫টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মুজাফফরাবাদ জেলায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ২১৯ জন, নীলম জেলায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১১ জন এবং ঝিলাম ভ্যালিতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ জন ভোটার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গোলাম মোস্তফা মুঘল ভোটারদের এই জাতীয় দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুজাফফরাবাদ-১ (এলএ-২৭) আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ফলে নির্বাচনী কর্মকর্তারা সময়মতো ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এছাড়া এলএ-৩১ এবং এলএ-২৮ এর বেশ কিছু কেন্দ্রে সময়মতো ভোট শুরু না হওয়ায় পাকিস্তান পিপলস পার্টি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১০ আগস্ট পুঞ্চ বিভাগে নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে দেশব্যাপী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনেও ভোটগ্রহণ চলেছে। গুজরানওয়ালা, গুজরাট, শিয়ালকোট, নারোওয়াল ও লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে এই নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
