AdvertisementAdvertisement

দুবাইয়ে গা ঢাকা দিয়ে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল বীরভূমে অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন

বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবুদ্দিন মণ্ডলের বেআইনি সাম্রাজ্যের সন্ধানে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। কোটি কোটি টাকা নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের পর থেকেই পলাতক এই ব্যবসায়ী। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বর্তমানে টুলু মণ্ডল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে তার মেয়ের জামাইয়ের আশ্রয়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে পুলিশ ও প্রশাসন জেলাজুড়ে অবৈধ পাথর খাদান ও ব্যবসায়িক আস্তানায় কঠোর অভিযান শুরু করেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মহম্মদবাজারের সোঁতশাল এলাকায় টুলুর প্রধান কার্যালয়ে গত শনিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় তল্লাশি শেষে বেশ কিছু নথিপত্র জব্দ করে অফিসটি সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। পাথর ব্যবসার কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স টুলুর ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পঞ্চায়েত সমিতির তথ্যমতে, স্থানীয় পর্যায়ে টুলু নিজেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করতেন, ফলে দাপ্তরিক নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণের কোনো বালাই ছিল না। পাথর খাদান ও পার্কিংয়ের জমির একটি বড় অংশ সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা মাপজোখের মাধ্যমে স্পষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

টুলু মণ্ডলের অবৈধ সম্পদ উদ্ধারে প্রশাসন এখন সর্বাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি তার মেয়ের নামে থাকা একটি পেট্রোল পাম্প এবং টুলুর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার দুই হিসাবরক্ষককে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজারের জবানবন্দি অনুযায়ী, টুলুর অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে শালমা বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছেন এবং তার সঙ্গেই রয়েছেন পলাতক এই ব্যবসায়ী।

বীরভূম জেলার অবৈধ পাথর খাদান নির্মূলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার আটটি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে। মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে চালানো অভিযানে টুলুর আত্মীয় আপেল মোর্তাজাসহ প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ীদের খাদানগুলোতেও নিষেধাজ্ঞার নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মাসেও নয়টি খাদানে অনুরূপ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সাম্প্রতিক অভিযানে মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের পার্কিং এলাকা থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ কিউবিক ফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ পাথর অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ীর খাদান বন্ধের নির্দেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অবৈধ খনির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আইনের হাত থেকে বাঁচতে টুলু মণ্ডল বিদেশে পালিয়ে থাকলেও, তার রেখে যাওয়া বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য এখন গোয়েন্দা ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%