AdvertisementAdvertisement

ইথিওপিয়ায় সংঘাতের জেরে হুমকির মুখে প্রিটোরিয়া শান্তি চুক্তি

ইথিওপিয়ার উত্তরের টাইগ্রে অঞ্চলে ফের শুরু হয়েছে সশস্ত্র সংঘাত, যা ২০২২ সালের প্রিটোরিয়া শান্তি চুক্তির স্থায়িত্বের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির ফেডারেল বাহিনী এবং টাইগ্রের আঞ্চলিক যোদ্ধাদের মধ্যে এই নতুন লড়াইয়ে পুরো অঞ্চলটি নতুন করে অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে। শেরা‌রোর কাছে সুদানের সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার ভোরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

টাইগ্রের রাজধানী মেকেল থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আঞ্চলিক সরকার দাবি করেছে, ফেডারেল বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে অগ্রসর হতে শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে ইথিওপিয়ার সরকারের মন্ত্রী আব্রাহাম বেলে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের—টিপিএলএফ চেয়ারম্যান দেব্রেৎসিয়ন গেব্রেমিশেলের বাহিনীকে এই সংঘাতের জন্য দায়ী করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে আদ্দিস আবাবা এবং টিপিএলএফ-এর মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল, যা বর্তমানে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। টাইগ্রে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দেশটির ক্ষমতাসীন প্রসপারিটি পার্টি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অঞ্চলে অবরোধ ও ড্রোন হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এই সংকট মোকাবেলায় তারা বিষয়টিকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইথিওপিয়ার গোয়েন্দা প্রধান রেডওয়ান হোসেন এবং টিপিএলএফ-এর সাবেক মুখপাত্র গেতাচিউ রেডা যৌথভাবে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠছে। অসলো নিউ ইউনিভার্সিটি কলেজের বিশেষজ্ঞ কজেতিল ট্রনভল এই ঘটনাকে প্রিটোরিয়া চুক্তির পর ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, শান্তি চুক্তিটি যুদ্ধ বিরতিতে ভূমিকা রাখলেও মেকেল ও আদ্দিস আবাবার মধ্যকার মূল বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত প্রিটোরিয়া চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটেছিল, যাতে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে নিরস্ত্রীকরণ এবং টিপিএলএফ-এর আইনি মর্যাদা নিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলো শান্তি প্রক্রিয়াকে ভঙ্গুর করে রেখেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এখন আশঙ্কা করছেন যে, শক্তিশালী কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংঘাত আরও বড় আকারের যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%