AdvertisementAdvertisement

বারুইপুরে এনকাউন্টারে বন্দিমৃত্যু: তদন্তকারী সংস্থা বদলের দাবিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

বারুইপুর কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা বিতর্ক ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। ঘটনার চার দিন আগেই পুলিশকে লিখিতভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও কীভাবে এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র। এই নিয়ে বিতর্কিত এনকাউন্টারের ঘটনাটিতে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে।

গত ৮ জুলাই অপরাধের পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার সময় প্রভাস কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার খাতিরে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাসের মৃত্যু হয়। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে হাইকোর্টে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শনিবার দায়ের হওয়া নতুন মামলায় আবেদনকারীর আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী যুক্তি দেখিয়েছেন, যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে, সেই পুলিশ কীভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। মামলাকারীর দাবি, তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন না করলে এই এনকাউন্টারের রহস্য কোনোদিন উন্মোচিত হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দকে নির্দেশ দিয়েছে, ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কেন গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা হলফনামা আকারে জমা দিতে। সেই সময় কোনো ভিডিও রেকর্ডিং না থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, প্রভাস জেরায় অপরাধ স্বীকার করায় আইন মেনেই তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কোনো অনিয়ম ঘটেনি। তবে উচ্চ আদালত জানিয়েছে, রাজ্যের বক্তব্য শোনার পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%