ছেলের কথা রাখা ও প্রতিজ্ঞা পূরণে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বধু বরণ করলেন মানিকগঞ্জের বাবা

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার উত্তরতরা গ্রামে এক অভিনব ও রাজকীয় বিয়ের আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ছেলে কোনো প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানোর শর্ত পূরণ করায় বাবা হোসেন আলী কথা অনুযায়ী হেলিকপ্টারে চড়িয়েই পুত্রবধূকে ঘরে তুলে এনেছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার উত্তরতরা গ্রামের আকাশে হেলিকপ্টারের গর্জন আর মানুষের ভিড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, হোসেন আলীর ছেলে কামরুল হাসান ছাত্রজীবন থেকেই অত্যন্ত মার্জিত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। তিনি কখনোই কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়াননি, যা বাবার মনে গভীর আস্থার জন্ম দেয়। ছেলের এই সততা ও ভদ্রতায় মুগ্ধ হয়ে হোসেন আলী ঘোষণা করেছিলেন, তার ছেলে যদি নিজের চরিত্র ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে পারে, তবে বিয়ের দিন তাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে রাজকীয়ভাবে কনে আনতে পাঠানো হবে।
পারিবারিকভাবে পার্শ্ববর্তী সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের কন্যা মুন্নী আক্তারের সঙ্গে কামরুলের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়। প্রতিশ্রুত শর্ত মেনে শুক্রবার বিকেলে সুসজ্জিত হেলিকপ্টারে চড়ে কনের বাড়িতে গিয়ে কামরুল হাসান বিয়ে সম্পন্ন করেন। এরপর আকাশপথে নববধূকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এলে উৎসুক গ্রামবাসী বর-কনেকে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান।
এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন ও বাবার কথা রাখার ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সজিব মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বাবার এই শৌখিন আয়োজনের মাধ্যমে কামরুল হাসানের চরিত্র ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিই নতুন করে প্রশংসিত হচ্ছে।
নিজের কথা রাখতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত হোসেন আলী জানান, তার ছেলে কোনো বাজে অভ্যাসে বা সম্পর্কে জড়িয়ে বাবার সম্মান ক্ষুণ্ন করেনি। তাই সেই প্রতিদানস্বরূপ নিজের শখ পূরণ এবং সন্তানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হেলিকপ্টার ভাড়া করে এই বিয়ের আয়োজন করেছেন। এমন রাজকীয় আয়োজনে আনন্দিত বর-কনে ও পরিবারের সদস্যরা।
