বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানির রূপালী পর্দা থেকে মাতৃত্বের পথচলা ও অভিনয় জীবনের নতুন মোড়

বলিউডের গ্ল্যামার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম কিয়ারা আদভানি। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুতে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম সারির নায়িকা। ৩১ জুলাই এই তারকার জন্মদিনে তাঁর বর্ণিল জীবন ও কর্মময় যাত্রার দিকে চোখ ফেরানো যাক। মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া আলিয়া আদভানি যখন বলিউডে পা রাখেন, তখন আলিয়া ভাট নামের এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রতিষ্ঠিত। সেই ভিড় থেকে নিজেকে আলাদা করতে তিনি নিজের নাম বদলে রাখেন কিয়ারা।
২০১৪ সালে ‘ফাগলি’ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সাফল্যের দেখা মেলে ২০১৬ সালে ‘এম. এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ সিনেমায় ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মাধ্যমে। তবে কিয়ারার ক্যারিয়ারে সত্যিকারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ২০১৯ সালের ‘কবির সিং’। প্রীতি চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নেয়। এরপর ‘গুড নিউজ’, ‘শেরশাহ’, ‘ভুল ভুলাইয়া ২’ এবং ‘সত্যপ্রেম কি কথা’র মতো একের পর এক সুপারহিট সিনেমা তাঁকে পৌঁছে দেয় খ্যাতির চূড়ায়।
পেশাদার জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও কিয়ারা এখন এক নতুন অধ্যায় পার করছেন। সহ-অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সাথে প্রেম ও ২০২৩ সালে রাজস্থানের জয়সলমিরে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন ছিল বি-টাউনের অন্যতম চর্চিত ঘটনা। গত বছর কন্যাসন্তানের মা হওয়ার পর কিয়ারা এখন মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতায় ডুবে আছেন। তবে এই যাত্রা সবসময় সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক পডকাস্টে মাতৃত্বকালীন মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। পোস্টপার্টাম বা সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ের মানসিক লড়াই নিয়ে কথা বলাটা যে জরুরি, তা অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
মা হওয়ার পর নিজের জীবনের অগ্রাধিকার বদলেছে কিয়ারার। তিনি জানিয়েছেন, ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি নিজের জন্য সীমারেখা টানতে এবং নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শিখেছেন। কাজের ক্ষেত্রেও তিনি এখন আরও মনোযোগী। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত আছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাসের ‘টক্সিক’ সিনেমা নিয়ে। যশ ও কিয়ারা অভিনীত এই সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। চরিত্রের গভীরতায় ডুব দিতে গিয়ে পরিচালক গীতুর কঠোর নির্দেশনাও মানতে হয়েছে তাঁকে, যা কিয়ারার অভিনয়শৈলীকে করেছে আরও ধারালো।
কন্নড় ভাষায় সংলাপ বলা এবং চরিত্রের আবেগকে ফুটিয়ে তোলা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত ভেঙে গড়ে তোলাই কিয়ারার সহজাত বৈশিষ্ট্য। আজ এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক আকাশচুম্বী; প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। রূপালি পর্দার গ্ল্যামার আর মাতৃত্বের গভীর দায়িত্ববোধ—সব মিলিয়ে কিয়ারা আদভানি আজ এক পরিপূর্ণ আধুনিক নারী ও তারকার প্রতিচ্ছবি। তাঁর জন্মদিনে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রত্যাশা, আরও বহু বছর পর্দা কাঁপিয়ে যাবেন এই সুন্দরী অভিনেত্রী।
