১৬ বছর বয়সে সহ-অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব বৈভব সূর্যবংশীর কাঁধে বড় স্বপ্ন দেখছে ইস্ট জোন

মাত্র ১৬ বছর বয়সে দলীপ ট্রফির মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে ইস্ট জোনের সহ-অধিনায়ক হিসেবে বৈভব সূর্যবংশীর নিয়োগ ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে এখন জোর বিতর্ক। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যতের দূরদর্শী কোনো পরিকল্পনা, নাকি কিশোর বয়সেই অহেতুক চাপের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া—তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে দলটির নির্বাচক কমিটির সদস্য ও ওড়িশার সাবেক রঞ্জি তারকা প্রবাঞ্জন মল্লিক এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা যুক্তিগুলো খোলাসা করেছেন। তার মতে, ইশান কিশান দলের নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি উইকেটরক্ষক হওয়ায় মাঠের পুরোটা সময় খেলার সঙ্গে সক্রিয় থাকবেন। তাই বৈভবের ওপর বাড়তি কোনো চাপ পড়বে না, বরং এই দায়িত্ব তাকে আরও পরিণত হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইস্ট জোনের নির্বাচক কমিটির মতে, ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুণাবলি বৈভবের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বিহারের হয়ে নিয়মিত খেলা এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বৈভব এরই মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ সেরার পুরস্কার জয় তার প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। প্রবাঞ্জন মল্লিক জানিয়েছেন, দলীপ ট্রফিতে এমন গুরুদায়িত্ব পালন করা বৈভবের ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় সুযোগ। যদি এই টুর্নামেন্টে সে ধারাবাহিক রান করতে পারে, তবে জাতীয় টেস্ট দলের দরজাও খুব দ্রুত তার জন্য খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচকরা।
কলকাতা ইডেন গার্ডেনসে আয়োজিত নির্বাচক কমিটির এই সভায় সিএবি সচিব বাবলু কোলে ছাড়াও দিব্যেন্দু চক্রবর্তী, মনিষ বর্ধন, অলোক সাহা, অনন্ত প্রকাশ এবং ভার্চুয়ালি সুমিত রঞ্জন দাস উপস্থিত ছিলেন। প্রবাঞ্জন মল্লিক আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের আগে বৈভবের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি; এটি ছিল পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নির্বাচকদের একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে মল্লিকের বক্তব্য হলো, সবার নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে নির্বাচক প্যানেল দলের স্বার্থ বিবেচনা করেই এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।
আগামী ২৩ আগস্ট থেকে বেঙ্গালুরুতে শুরু হতে যাওয়া দলীপ ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে নর্থ জোনের মুখোমুখি হবে ইস্ট জোন। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকদের এই আস্থার প্রতিদান দিয়ে বৈভব মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন। সব বিতর্ক ছাপিয়ে এই তরুণ তুর্কি কি পারবেন নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে, তা সময়ই বলে দেবে।
