অভিবাসন দপ্তরের গুলিতে নিহত সালগাদো আরাউহোর হত্যার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি পরিবারের

মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের গুলিতে নিহত লোরেনজো সালগাদো আরাউহোর দুই সন্তান তাদের পিতার মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আইনপ্রণেতাদের সামনে আয়োজিত এক আবেগঘন শুনানিতে তারা তাদের পিতাকে একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি সর্বদা পরিবারের সুরক্ষা ও চাহিদা পূরণে সচেষ্ট ছিলেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানিতে তারা উল্লেখ করেন যে, তাদের পিতা তাদের শিখিয়েছিলেন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
হিউস্টনের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ লোরেনজো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। ৫২ বছর বয়সী এই মেক্সিকান অভিবাসী দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। পরিবারের তথ্যমতে, অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইস-এর কর্মকর্তারা মূলত যে অভিযান পরিচালনা করছিলেন, তার লক্ষ্যবস্তু তিনি ছিলেন না।
হ্যারিস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি শন টিয়ার শুনানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আইস-এর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ প্রদানে অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি যে কর্মকর্তা গুলি চালিয়েছিলেন, তার পরিচয় প্রকাশ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই ট্রাফিক স্টপের সময় লোরেনজোর ভাইসহ আরও তিন যাত্রীকে আটক করা হলেও, ঘটনার সময় কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা চালু ছিল না বলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, লোরেনজো তার গাড়িটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন, তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ভাষ্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক সদস্যরা আগাম নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আইস-এর কাঠামোগত পরিবর্তনের সংকেত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান ক্রিস্টিয়ান মেনিফি মনে করেন, অভিবাসন সংস্থাটিকে আমূল সংস্কার করে এমনভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে সাধারণ মানুষের মর্যাদাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লোরেনজো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর সপ্তাহখানেক পরই মেইন অঙ্গরাজ্যের বিডেফোর্ড শহরে কলম্বিয়ান অভিবাসী জোন সেবাস্টিয়ান দুরান গুরেরোকে গুলি করে হত্যা করে আইস। এছাড়াও চলতি বছরের শুরুর দিকে মিনিয়াপোলিসে পৃথক ঘটনায় দুই মার্কিন নাগরিক ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ হারান, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা