AdvertisementAdvertisement

আন্দোলনে নিহত সুমাইয়ার এতিম মেয়ের দায়িত্ব নিতে পরিবারের আকুল আবেদন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেলিকপ্টার দেখার সময় গুলিতে প্রাণ হারান ১৯ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান সোয়াইবার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। সেই ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই নির্মম বুলেটে থেমে যায় তার জীবন। বর্তমানে দুই বছর বয়সী এতিম শিশুকন্যাকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন সুমাইয়ার পরিবার।

সুমাইয়ার মা আসমা বেগম বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার দুই ছেলে সজল ও শাকিল কার্টন এবং পোশাক কারখানায় স্বল্প বেতনে কাজ করেন, যার আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় শাকিলের খিচুনি রোগের চিকিৎসায়। ছোট ছেলের মাদরাসার পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয় আসমা বেগমকে। মা-হারা নাতনি সোয়াইবার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং বর্তমান সরকারের কাছে শিশুকন্যাটির ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থার আবেদন জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর সুমাইয়ার ভগ্নিপতি মো. বিল্লাল বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ময়নাতদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গত ২০ নভেম্বর সুমাইয়ার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার প্রয়াত সেলিম মাতবরের মেয়ে সুমাইয়া স্বামীর কর্মস্থল সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকা ছেড়ে সন্তানের জন্মের পর সাময়িকভাবে মায়ের আশ্রয়ে এসেছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়া শহীদ হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত নাতনির স্থায়ী দায়িত্ব নেওয়ার মতো কাউকে পাশে পাননি তারা। জীবনযুদ্ধে বারবার হেরে যাওয়া আসমা বেগম তার মৃত্যুর পর অসহায় নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এ ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%