বিকাশ-সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

স্মার্টফোন ও বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে জামানতবিহীন ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ বা ন্যানো লোনের সেবা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সিটি ব্যাংক ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই উদ্ভাবনী সেবাটির মাধ্যমে গত সাড়ে চার বছরে ৩৫ লাখ গ্রাহক ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেছেন। প্রথাগত ব্যাংকিং কাঠামোর বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এই ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক প্রয়োজনে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই ডিজিটাল ঋণের পরিধি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম বছরে ১০১ কোটি টাকা বিতরণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সেবা ২০২৪ সাল নাগাদ ৮৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছায় এবং গত বছরে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ গুণ বেড়ে ৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৯০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক এই সুবিধার আওতায় আসছেন।
জনমিতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণগ্রহীতাদের ৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চল থেকে এবং বাকি ৩৭ শতাংশ গ্রাম থেকে সেবাটি গ্রহণ করছেন। লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনে দেখা গেছে, মোট ঋণগ্রহীতাদের ৭৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২২ শতাংশ নারী। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই ঋণের গড় পরিমাণ জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা এবং প্রতিটি গ্রাহক গড়ে ৯ বারের বেশি এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি গ্রাহকের জন্য এই ঋণ সুবিধা উন্মুক্ত রয়েছে, যেখানে নগদ ঋণের হার ৯৯ শতাংশ।
দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন খেলাপি ঋণের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ বিদ্যমান, তখন সিটি ব্যাংকের এই ডিজিটাল ন্যানো লোনের পোর্টফোলিও ঈর্ষণীয় সাফল্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এ পর্যন্ত বিতরণকৃত ১০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা বা দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, গ্রাহকদের কাছ থেকে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ নিয়মিতভাবে আদায় হয়েছে, যা আর্থিক খাতে সুশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এই সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, ক্ষুদ্র অঙ্কের এই ডিজিটাল ঋণের মান পুরো ব্যাংক খাতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক তথ্যভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন এবং ব্যাংকিং সুশাসনের সমন্বয়ে তারা একটি কার্যকর ডিজিটাল মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এই মাইলফলক লাখো মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে ডিজিটাল সেবা পৌঁছানোর সক্ষমতাকেই প্রতিফলিত করে।