AdvertisementAdvertisement

পেরুতে চরম মেরুকরণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মুখে নির্বাচনের ফল

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পথে থাকলেও দেশটিতে বিরাজ করছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। রবিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দক্ষিণপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিউমোরি এবং বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ৯২ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ফুজিউমোরি ৫০.২ শতাংশ ভোট পেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে সানচেজ পেয়েছেন ৪৯.৮ শতাংশ ভোট। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ শতাংশেরও কম, যা লাতিন আমেরিকার এই দেশটির গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনো চলমান, তবে গ্রামীণ এলাকাগুলোর ভোট গণনার সাথে সাথে ব্যবধান আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে সানচেজের জনসমর্থন প্রবল। দশকের ব্যবধানে নবম রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় থাকা পেরুর রাজনীতিতে এই লড়াই কোনো চূড়ান্ত জয়ী ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পেরুভিয়ান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাওলো ভিলকা মন্তব্য করেছেন যে, এই ফলাফল দেশটির বিভক্ত সমাজকেই প্রতিফলিত করছে এবং যিনিই জয়ী হোন না কেন, তাকে দেশের অর্ধেক মানুষের বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিউমোরির কন্যা ৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিউমোরি তার নির্বাচনী প্রচারে কঠোর নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে তার বাবার শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপূর্বক বন্ধ্যাকরণের মতো বিতর্কিত ইতিহাসের উত্তরাধিকার নিয়েও তিনি নানা সমালোচনার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ৫৭ বছর বয়সী রবার্তো সানচেজ দারিদ্র্য বিমোচন, পুলিশ সংস্কার এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের অঙ্গীকার করে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের মনোযোগ কেড়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্টিলোকে ক্ষমা প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের এই সমীকরণ ২০২১ সালের নির্বাচনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে কেইকো ফুজিউমোরি এবং পেদ্রো কাস্টিলোর লড়াইয়ে ব্যবধান ছিল অত্যন্ত নগণ্য। সেবার ফলাফল নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে টানাপোড়েন চলেছিল। এবারের নির্বাচনে বিজয়ীর জন্য যেমন রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে, তেমনি দেশটির ডানপন্থী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের সাথে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করাও নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত পুরো পেরু এখন চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতীক্ষায় রুদ্ধশ্বাস সময় পার করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%