বারুইপুরে অশান্তিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী বিক্ষোভের ঘটনায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে রবিবার গভীর রাতে সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা লাহেকের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ৫ জুলাই অশান্তির দিন ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে উত্তেজনা ছড়ানোর নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা ছিল।
গত কয়েক দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারুইপুর। নাবালিকার মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ একসময় হিংসাত্মক রূপ নেয়, যার জেরে একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। একই সময়ে সন্দেহের বশে গণপিটুনির শিকার হয়ে এক ব্যক্তি নিহত হন, যদিও পরবর্তীকালে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে ওই ব্যক্তি নিরপরাধ ছিলেন। এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ধৃত লাহেক আলিকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বারুইপুরে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভোটে প্রত্যাখ্যাত শক্তিরাই এই ঘটনার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে।
তবে এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার অনেক পরে লাহেক আলি সেখানে পৌঁছেছিলেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। গ্রেপ্তারির জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
