জাতীয় সংসদে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, সফল আইনজীবী এবং আপাদমস্তক অমায়িক ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদ। আজ বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় অধিবেশনে মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে রাজনীতির এক অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন। রোববার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন মেধা ও যোগ্যতার বলে প্রতিষ্ঠিত এক ‘সেলফ-মেড ম্যান’। নিজের রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং গণতন্ত্রের প্রতি তার ছিল অটল বিশ্বাস। মন্ত্রী আরও জানান, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য বজায় রাখা এই নেতা বিশ্বাস করতেন যে, নির্বাচনের বাইরে গণতন্ত্র চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

ব্যারিস্টার সরকারের ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সুটেড-বুটেড অবস্থায় তাকে সবসময় একজন প্রকৃত জেন্টলম্যান হিসেবে দেখা যেত। তিনি বয়সে ও অভিজ্ঞতায় পিতৃতুল্য হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে সবসময় অত্যন্ত বিনয়ী আচরণ করতেন। প্রচলিত সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সাবেক স্পিকারদের মতো তাকেও জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণেই সমাহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যখন দেশের মানুষ আইনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল, তখন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নিঃস্বার্থভাবে বিরোধী দলের নেতাদের আইনি সুরক্ষা দিয়েছেন। তিনি তার মক্কেলদের কাছ থেকে কোনো সম্মানী গ্রহণ না করে একে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দোকার মোশাররফ হোসেন এ সময় যোগ করেন, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে হ্যাট, কোট ও ছাতা হাতে তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত স্বকীয়, আর পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন মক্কেলদের বিষয়ে পরম দায়িত্বশীল।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জাতি আজ এক সাদা মনের মানুষ ও মহান রাজনীতিককে হারিয়েছে। তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে স্পিকারের আসন অলঙ্কৃত করেছেন এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে কোনো ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। পরে মরহুমের সম্মানে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের পরিচালনায় তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

0%
0%
0%
0%