AdvertisementAdvertisement

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাঁচ দেশে ইরানের পাল্টা আক্রমণ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে তেহরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর চালানো তৃতীয় দফার তীব্র বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও ওমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে তিন রাতব্যাপী অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ-স্থাপনা, গোলাবারুদ মজুদাগার ও রাডারসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং ওয়াশিংটনকে তাদের কর্মকাণ্ডের মাশুল দিতে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় লোরিস্তান ও খন্দাব প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, ওমানের দুকম বন্দর এবং জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে নিরাপত্তা সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওমান সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ চলছে। ইরানের দাবি, তাদের অনুমোদিত রুট ছাড়া অন্য কোনো পথ ব্যবহার করা যাবে না এবং মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও জিসিসিভুক্ত দেশগুলো কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই সেখানে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে।

গত মাসের সমঝোতা স্মারকটি দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় এই সংঘাতের পথ আগে থেকেই খোলা ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের পর পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এশিয়াসহ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%