যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালীতে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন ফি বা মাশুল আরোপের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ইরান। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, প্রণালীর নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। তবে চীন ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাজলি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর একাংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে সেবা মাশুল নেওয়া তাদের অধিকার। তিনি একে প্রচলিত ‘টোল’ হিসেবে অভিহিত না করে বরং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তদারকি এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তেহরান।
এর আগে গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা নিরসনের প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো মাশুল ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কী নিয়ম কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানকে মাশুল নিতে দেওয়া হবে না।
গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। এ সময় ইরান কৌশলগত এই জলপথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের দক্ষিণমুখী বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে দেশীয় তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমানের সঙ্গে একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছে ইরান। এই কমিটিই নির্ধারণ করবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতায় গৃহীত নতুন এই উদ্যোগের ফলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা