দলীয় নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করতে মাঠে মমতা, প্রতীক ও অফিস নিয়ে স্পষ্ট বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পদ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাটকীয় পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরেই ফেসবুক লাইভে এসে সরব হলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে দলের নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, এখন থেকে তিনি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য শাখা—উভয় ক্ষেত্রেই সরাসরি নজরদারি চালাবেন। দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তিনি প্রতিদিন কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

সাংগঠনিক রদবদলের অংশ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেছেন। আগামী ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানান, সভার স্থানের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের কর্মীদের সভার স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

দলীয় কার্যালয় নিয়ে চলমান বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেন যে, ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটই তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কার্যালয় এবং ভবিষ্যতে তা অপরিবর্তিত থাকবে। মেট্রোপলিটন বাইপাসের কার্যালয়ে তালা ঝোলার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই কার্যালয়টি ভাড়া নেওয়া ছিল এবং সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। দাবির সপক্ষে ক্যামেরার সামনে তিনি প্রাসঙ্গিক নথি প্রদর্শনও করেন।

দলীয় প্রতীক হারানোর আশঙ্কা ও বিজেপি বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের একাংশের সহযোগিতায় বিজেপি দল ভাঙার চক্রান্ত চালাচ্ছে। তবে প্রতীক হাতবদল হলেও তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়বে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। মমতার ভাষ্যমতে, প্রকৃত প্রতীক হলো সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন, যা কোনো আইনি জটিলতায় কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%