স্যাটেলাইট সিটির হাতছানি চট্টগ্রামকে আধুনিকায়নে সিডিএর পঁচিশ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও ভবিষ্যৎমুখী স্যাটেলাইট সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৫ বছরের জন্য গৃহীত এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণায় গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটির খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনায় মূল শহরের ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর ওপারবর্তী আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকাসহ আরও ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে যুক্ত করা হবে। এর ফলে শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ৩৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের আওতায় ভৌত অবকাঠামো জরিপ, ডিজিটাল মৌজা ম্যাপ তৈরি এবং আর্থসামাজিক সমীক্ষাসহ প্রকল্পের প্রায় ৮৭ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন এই মাস্টারপ্ল্যানে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিশাল অংশকে শহরের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের জন্য উন্নত আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশ সুরক্ষায়; যার অংশ হিসেবে ১৯৯ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২৭৬টি ছোট-বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী জানিয়েছেন, কর্ণফুলী টানেল ও শাহ আমানত সেতুর সংযোগ এই স্যাটেলাইট সিটি প্রকল্পকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। নগরকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করতে এই পরিকল্পনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে খাল পুনঃখনন এবং সুইস গেট নির্মাণের মতো পদক্ষেপ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর ৪৪ হাজার পুকুর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি ও নগরবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বিদ্যমান আইন সংশোধন না করা হলে নতুন এই পরিকল্পনাও কাগুজে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত নিখুঁত পরিকল্পনা দিয়ে শহর রূপান্তর সম্ভব নয়, বরং শক্তিশালী আইনগত কাঠামো ও সমন্বিত উদ্যোগই এই মহাপরিকল্পনাকে সফল করতে পারে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, শহরকে নান্দনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে চট্টগ্রামের উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

0%
0%
0%
0%