মার্কিন-ইরান সমঝোতা নিয়ে তীব্র ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, সামরিক স্বনির্ভরতার ডাক ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর

সুইজারল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত আলোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। লেবানন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তেল আভিভের আশঙ্কা, মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ লেবাননে ইরানের প্রভাবকে আরও সংহত করছে এবং ইজরায়েলের স্বাধীন সামরিক অভিযানের সক্ষমতাকে খর্ব করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পক্ষগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শনের হুমকি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে। তবে সোমবার এই চুক্তিকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইজরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ওয়াশিংটন এখন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসে সমঝোতায় পৌঁছালেও, লেবানন সীমান্ত ইস্যুতে ইজরায়েল কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছে। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তি ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন ও নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার সরাসরি লঙ্ঘন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেতানিয়াহু তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রাক্তন মন্ত্রী রন ডারমারকে ট্রাম্পের শিবিরের সঙ্গে জরুরি আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ডারমারের পর্দার পিছনের তৎপরতার ফলেই হিজবুল্লাহকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বার্তা দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এখন মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর অতি-নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার ইজরায়েলি সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু মার্কিন সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও আত্মনির্ভরশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটন থেকে তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি বলেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
