টেকনাফে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র আতঙ্ক ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে প্রশাসনের মাইকিং

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরত হাজারো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
গত রোববার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইকং ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া ও সদর ইউনিয়নের উত্তর লেঙ্গুরবিল ও মিঠাপানির ছড়া এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পাহাড়ধসের আশঙ্কার পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী, সুলিচপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও লামারপাড়ায় জলাবদ্ধতায় বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে সোমবার সকালে মোহাম্মদ জসিম নামে এক জেলের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ট্রলারটি ডুবে গেলেও এর মাঝিমাল্লারা অক্ষত অবস্থায় তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢালে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বনকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
