Infinix Hot 50 Pro
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সহ অ্যামোলেড ডিসপ্লে।
- ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর (এই বাজেটে বিরল)।
- নতুন হেলিও জি১০০ প্রসেসর ও ভালো পারফর্মেন্স।
- অত্যন্ত স্লিম (৭.৪ মিমি) প্রিমিয়াম ডিজাইন।
- ৩৩ ওয়াট চার্জিং ও বাইপাস চার্জিং সুবিধা।
- ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার।
- ৫ বছরের ল্যাগ-ফ্রি সার্টিফিকেশন।
- ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই।
- আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা লেন্স নেই।
- সেলফি ক্যামেরা মাত্র ৮ মেগাপিক্সেল।
- এটি ৫জি সাপোর্টেড নয়।
বিস্তারিত
Infinix Hot 50 Pro market price in Bangladesh is ১৮,৯৯৯ টাকা । ইনফিনিক্স তাদের হট সিরিজের মাধ্যমে বাজেট এবং মিডরেঞ্জ ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণত হট সিরিজকে গেমিং বা এন্ট্রি লেভেল পারফর্মেন্সের জন্য পরিচিত মনে করা হলেও, ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো মডেলটি সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
এই ফোনটি বাজারের অন্যতম স্লিম এবং স্টাইলিশ স্মার্টফোন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এসেছে। ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো মূলত তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যারা হট ৫০ প্রো প্লাস-এর মতো প্রিমিয়াম ফিল চান, কিন্তু বাজেট কিছুটা কম। এতে রয়েছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং মিডিয়াটেকের নতুন হেলিও জি১০০ প্রসেসর।
আজকের এই পর্যালোচনায় আমরা এই ডিভাইসটির ডিজাইন, ডিসপ্লে কোয়ালিটি, গেমিং পারফর্মেন্স, ক্যামেরা এবং ব্যাটারি লাইফ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো-এর ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এক কথায় অনবদ্য। ইনফিনিক্স এই ডিজাইনের নাম দিয়েছে “টাইটানউইং” (TitanWing) আর্কিটেকচার। ফোনটি হাতে নিলেই এর প্রিমিয়াম ভাব এবং সলিড বিল্ড কোয়ালিটি বোঝা যায়।
এর পুরুত্ব মাত্র ৭.৪ মিলিমিটার, যা এই বাজেটের ফোনে খুব একটা দেখা যায় না। ওজনেও এটি বেশ হালকা, মাত্র ১৯০ গ্রামের আশেপাশে। পেছনের প্যানেলে ম্যাট ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে যা দেখতে অনেকটা ফ্রস্টেড গ্লাসের মতো মনে হয়, যদিও এটি উন্নত মানের পলিকার্বোনেট দিয়ে তৈরি। এই ফিনিশের কারণে ফোনে আঙুলের ছাপ বা দাগ পড়ার ভয় থাকে না। ক্যামেরা মডিউলটি লম্বালম্বিভাবে সাজানো হয়েছে, যা ফোনটিকে একটি ক্লিন এবং মিনিমালিস্টিক লুক দিয়েছে।
ফোনের ফ্রেমটি ফ্ল্যাট এবং বক্সি ডিজাইনের, যা বর্তমান ট্রেন্ডের সাথে মানানসই। ডান পাশে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার রয়েছে। তবে মজার বিষয় হলো, পাওয়ার বাটনটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নয়, কারণ এতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। নিচের অংশে টাইপ-সি পোর্ট, স্পিকার গ্রিল এবং সিম ট্রে রয়েছে।
তবে স্লিম ডিজাইনের কারণে এতে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অডিও লাভারদের জন্য কিছুটা হতাশার কারণ হতে পারে। আইপি ৫৪ রেটিং থাকার কারণে এটি ধুলো এবং হালকা পানির ঝাপটা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো-এর সবচেয়ে বড় আপগ্রেড হলো এর ডিসপ্লে। পূর্ববর্তী হট সিরিজের প্রো মডেলগুলোতে সাধারণত আইপিএস প্যানেল দেখা যেত, কিন্তু হট ৫০ প্রো-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির একটি বিশাল অ্যামোলেড ডিসপ্লে।
এই ডিসপ্লের রেজোলিউশন ফুল এইচডি প্লাস (১০৮০ x ২৪৩৬ পিক্সেল)। অ্যামোলেড প্যানেল হওয়ার কারণে এর কালার রিপ্রোডাকশন অসাধারণ। কালো রংগুলো গভীর এবং অন্যান্য রংগুলো বেশ পাচি ও জীবন্ত দেখায়। এর সাথে রয়েছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, যা ইউজার ইন্টারফেস এবং স্ক্রলিং অভিজ্ঞতাকে মাখনের মতো মসৃণ করে তোলে।
টাচ স্যাম্পলিং রেট ৩৬০ হার্টজ বা তার বেশি হওয়ায় গেম খেলার সময় কুইক রেসপন্স পাওয়া যায়। ডিসপ্লের পিক ব্রাইটনেস ১০০০ নিটসের ওপরে, যার ফলে প্রখর রোদেও বাইরে চলাফেরা করার সময় স্ক্রিনের লেখা পড়তে কোনো সমস্যা হয় না। ডিসপ্লের সুরক্ষার জন্য এতে গোরিলা গ্লাসের প্রোটেকশন রয়েছে। এছাড়া “ওয়েট টাচ” প্রযুক্তি থাকার কারণে ভেজা হাতেও স্ক্রিন কাজ করবে। বেজেলগুলো বেশ সরু হওয়ায় ভিডিও দেখার সময় এক দারুণ ইমারসিভ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। ইউটিউব বা নেটফ্লিক্স স্ট্রিমিংয়ের জন্য এই বাজেটে এটি অন্যতম সেরা ডিসপ্লে।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার পারফর্মেন্সের জন্য Infinix Hot 50 Pro তে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ (Helio G100) চিপসেট। এটি ৬ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি একটি অক্টা-কোর প্রসেসর। মূলত এটি জনপ্রিয় হেলিও জি৯৯ চিপসেটের একটি রিফাইন বা অপ্টিমাইজড সংস্করণ। ইনফিনিক্স দাবি করেছে এটি বিশ্বের প্রথম জি১০০ প্রসেসরযুক্ত ফোনগুলির মধ্যে একটি।
দৈনন্দিন কাজ যেমন—সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, মাল্টিটাস্কিং এবং অ্যাপ ওপেনিংয়ের ক্ষেত্রে ফোনটি কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই কাজ করে। ইনফিনিক্সের দাবি অনুযায়ী, এই ফোনটি টিইউভি (TÜV) এর ৬০ মাসের ফ্লুয়েন্সি রেটিং প্রাপ্ত, অর্থাৎ ৫ বছর পর্যন্ত ফোনটি নতুনের মতো ফাস্ট থাকবে।
গেমিংয়ের ক্ষেত্রে, পাবজি মোবাইল বা কল অফ ডিউটির মতো গেমগুলো স্মুথ গ্রাফিক্স এবং আল্ট্রা বা এক্সট্রিম ফ্রেম রেটে খেলা সম্ভব। ফ্রি ফায়ার বা মোবাইল লিজেন্ডস-এর মতো গেমগুলোতে হাই ফ্রেম রেট বা ৯০ এফপিএস পাওয়া যায়। ফোনটিতে ৮ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ রয়েছে। মেমোরি ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাম আরও ৮ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। দীর্ঘক্ষণ গেম খেললে ফোনটি সামান্য গরম হতে পারে, তবে তা খুব দ্রুত স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ ভিত্তিক এক্সওএস ১৪.৫ (XOS 14.5) ইন্টারফেসে চলে। ইনফিনিক্সের সফটওয়্যারে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। ব্লোটওয়্যার বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং ইন্টারফেসটি এখন অনেক বেশি ক্লিন। এতে বেশ কিছু এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
যেমন—এআই ইরেজার, এআই কাটআউট এবং ফোল্যাক্স (Folax) ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। ইনফিনিক্সের ডায়নামিক বার ফিচারটি এই ফোনেও রয়েছে। এটি আইফোনের ডায়নামিক আইল্যাল্ডের মতো কাজ করে; ফেস আনলক, চার্জিং স্ট্যাটাস বা ব্যাকগ্রাউন্ড কলের সময় নচের আশেপাশে একটি সুন্দর অ্যানিমেশন তৈরি হয়। এছাড়া গেম মোড বা এক্স-এরিনা ফিচারটি গেমিংয়ের সময় নোটিফিকেশন ব্লক করা এবং পারফর্মেন্স বুস্ট করতে সাহায্য করে।
ক্যামেরা সেকশন ফটোগ্রাফির জন্য ফোনের পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সনি আইএমএক্স (Sony IMX) সিরিজের বা সমমানের শক্তিশালী সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। দিনের পর্যাপ্ত আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশ শার্প এবং ডিটেইলড হয়। কালার সায়েন্স কিছুটা স্যাচুরেটেড, যা ছবিগুলোকে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার উপযোগী করে তোলে।
পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার এবং এজ ডিটেকশন বেশ ভালো। তবে এই ফোনে কোনো আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স নেই, যা ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির জন্য একটি বড় অভাব। ম্যাক্রো এবং ডেপথ সেন্সরগুলো মূলত নামমাত্র। রাতে ছবি তোলার জন্য এতে “সুপার নাইট মোড” রয়েছে। নাইট মোড ব্যবহার করলে ছবিতে নয়েজ কমে এবং আলোর ব্যালেন্স ঠিক থাকে।
ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি ২কে রেজোলিউশনে ৩০ এফপিএস এবং ১০৮০পি রেজোলিউশনে ৬০ এফপিএস ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। সামনে একটি এলইডি ফ্ল্যাশ থাকার কারণে একদম অন্ধকারেও উজ্জ্বল সেলফি তোলা সম্ভব। ভিডিও কলের জন্য সামনের ক্যামেরাটি যথেষ্ট ভালো।
ব্যাটারি ও চার্জিং স্লিম ডিজাইন হওয়া সত্ত্বেও Infinix Hot 50 Pro তে ৫০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং ৬ ন্যানোমিটার প্রসেসর হওয়ার কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশ ভালো পাওয়া যায়। সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসেই দেড় দিন পার করে দেওয়া সম্ভব। এমনকি হেভি ইউজারদের জন্যও এটি এক দিন পূর্ণ ব্যাকআপ দেবে। ফোনটি চার্জ করার জন্য বক্সে ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়েছে।
এই চার্জার দিয়ে ০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মতো সময় নেয়। এছাড়াও এতে বাইপাস চার্জিং সুবিধা রয়েছে। বাইপাস চার্জিং থাকার ফলে গেম খেলার সময় চার্জার কানেক্ট করলে ব্যাটারি চার্জ না হয়ে সরাসরি মেইন লাইন থেকে ফোন চলবে। এর ফলে ফোন গরম হয় না এবং ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
অডিও ও অন্যান্য সাউন্ড কোয়ালিটির জন্য এতে ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে। স্পিকারগুলো বেশ লাউড এবং ক্লিয়ার সাউন্ড প্রদান করে। জেবিএল (JBL) টিউনিং না থাকলেও সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ উপভোগ্য। ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভুল। কানেক্টিভিটির জন্য এতে ডুয়েল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং জিপিএস সুবিধা রয়েছে। এনএফসি সুবিধা অঞ্চলভেদে থাকতে পারে। তবে ৩.৫ মিমি জ্যাক না থাকায় ব্লুটুথ হেডফোন বা টাইপ-সি কনভার্টার ব্যবহার করতে হবে।
সব মিলিয়ে, Infinix Hot 50 Pro তাদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ যারা ১৯-২০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং স্লিম ডিজাইনের ফোন খুঁজছেন। এটি প্রো প্লাস মডেলের চেয়ে কিছুটা কম দামী হলেও মূল ফিচারগুলো প্রায় একই। বিশেষ করে যারা হেভি গেমার নন কিন্তু একটি সুন্দর, দ্রুত এবং আধুনিক ফোন চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ।