Infinix Hot 50i
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সহ স্মুথ পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লে।
- ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও টাইপ-সি পোর্ট।
- ৪৮ মাসের ফ্লুয়েন্সি পারফর্মেন্স গ্যারান্টি (TÜV)।
- স্লিম এবং প্রিমিয়াম ডিজাইন।
- ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরা।
- ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার (৩০০% ভলিউম)।
- আইপি ৫৪ ডাস্ট ও স্প্ল্যাশ রেজিস্ট্যান্স।
- চার্জিং গতি ধীর (১৮ ওয়াট)।
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন ৭২০পি (ফুল এইচডি নয়)।
- হেভি গেমিংয়ের জন্য প্রসেসরটি দুর্বল।
- প্রচুর প্রি-ইনস্টল ব্লোটওয়্যার অ্যাপ।
বিস্তারিত
Infinix Hot 50i market price in Bangladesh is ১৩,৯৯৯ টাকা (অফিসিয়াল)। বাংলাদেশের বাজেট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে ইনফিনিক্সের ‘হট’ সিরিজটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। মূলত কম দামে ভালো ডিজাইন এবং সন্তোষজনক স্পেসিফিকেশন দেওয়ার কারণে এই সিরিজটি বাজারের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে। হট ৫০ সিরিজের সাশ্রয়ী সংস্করণ হিসেবে বাজারে এসেছে Infinix Hot 50i।
এই ফোনটি তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যারা ১৪ হাজার টাকার নিচে একটি স্টাইলিশ, স্লিম এবং দ্রুতগতির ডিসপ্লের স্মার্টফোন খুঁজছেন। ইনফিনিক্স দাবি করছে যে, এই বাজেটেও তারা এমন কিছু ফিচার দিয়েছে যা সাধারণত দামী ফোনে দেখা যায়। আজকের এই পর্যালোচনায় আমরা দেখব, আসলেই কি এই ফোনটি তার দামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছে কি না। ডিজাইন, ডিসপ্লে, পারফর্মেন্স এবং ক্যামেরার প্রতিটি দিক আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি Infinix Hot 50i এর ডিজাইন দেখলেই বোঝা যায় যে কোম্পানিটি বাজেট ফোনগুলোর লুকস বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। ফোনটি হাতে নিলেই এর স্লিমনেস আপনার নজর কাড়বে। ইনফিনিক্স একে বলছে “বিশ্বের সবচেয়ে স্লিম” তাদের এই সেগমেন্টে। এর পুরুত্ব মাত্র ৮.১ মিলিমিটার। পেছনের প্যানেলে পলিকার্বোনেট বা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হলেও ফিনিশিংটি বেশ প্রিমিয়াম।
ম্যাট টেক্সচার থাকার কারণে এটি হাতে ধরলে বেশ গ্রিপি মনে হয় এবং সহজে আঙুলের ছাপ পড়ে না। ক্যামেরা মডিউলটি স্কয়ার শেপের বা কিছুটা বর্গাকার, যেখানে লেন্সগুলো খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এটি দেখতে অনেকটা আইফোনের ক্যামেরা মডিউলের আদলে তৈরি, যা বাজেট গ্রাহকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। ফোনটির ফ্রেম ফ্ল্যাট বা সমতল, যা বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডের সাথে মানানসই।
ডান পাশে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার বাটন রয়েছে। পাওয়ার বাটনটি একই সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হিসেবে কাজ করে, যা এই বাজেটে একটি ভালো দিক। বাম পাশে সিম ট্রে রয়েছে, যেখানে দুটি সিম এবং একটি মেমোরি কার্ড একই সাথে ব্যবহার করা যাবে।
নিচের অংশে টাইপ-সি পোর্ট, স্পিকার গ্রিল এবং ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক রয়েছে। ফোনটি ওজনে হালকা হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে হাতে কোনো চাপ পড়ে না। এছাড়া এটি আইপি ৫৪ রেটিং প্রাপ্ত, অর্থাৎ ধুলোবালি এবং হালকা পানির ছিটা থেকে ফোনটি সুরক্ষিত থাকবে।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এই বাজেটের ফোনে সাধারণত ৯০ হার্টজ বা ৬০ হার্টজ ডিসপ্লে দেখা যায়, কিন্তু Infinix Hot 50i এখানে বড় চমক দিয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির একটি বিশাল আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। ১৪ হাজার টাকার নিচে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট পাওয়াটা সত্যিই বিরল।
এর ফলে স্ক্রলিং, সোয়াইপিং এবং অ্যাপ ওপেনিংয়ের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মসৃণ। ডিসপ্লের রেজোলিউশন এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬০০ পিক্সেল)। যদিও ফুল এইচডি হলে ভালো হতো, কিন্তু ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং পারফর্মেন্স ঠিক রাখতে এই রেজোলিউশনটি মেনে নেওয়া যায়। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ৫০০ নিটস, যা ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট উজ্জ্বল।
তবে কড়া রোদে বা আউটডোরে ডিসপ্লে দেখতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ডিসপ্লের ওপরের দিকে পাঞ্চ-হোল কাটআউট রয়েছে, যা ফোনটিকে মডার্ন লুক দেয়। ইনফিনিক্স তাদের “ডায়নামিক বার” ফিচারটি এখানেও রেখেছে। এটি ফেস আনলক, চার্জিং স্ট্যাটাস বা ব্যাকগ্রাউন্ড কলের সময় নচের আশেপাশে একটি সুন্দর অ্যানিমেশন তৈরি করে, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। কালার রিপ্রোডাকশন বাজেট অনুযায়ী ঠিকঠাক, ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় কালারগুলো বেশ ন্যাচারাল দেখায়।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার Infinix Hot 50i এর পারফর্মেন্স নিশ্চিত করতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ (Helio G81) চিপসেট। এটি একটি এন্ট্রি লেভেল অক্টা-কোর প্রসেসর। দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলো যেমন—ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইউটিউব ব্রাউজিং এবং অনলাইন ক্লাসের জন্য এই প্রসেসরটি যথেষ্ট।
ফোনটিতে ৪ জিবি বা ৬ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি স্টোরেজ অপশন রয়েছে। ইনফিনিক্সের মেমোরি ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাম আরও বাড়ানো সম্ভব, যা মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় অ্যাপ রিলোড হওয়া কমায়। তবে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এই ফোনটি থেকে খুব বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না। এটি কোনো গেমিং ফোন নয়।
ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো গেমগুলো লো সেটিংসে খেলা সম্ভব, কিন্তু হাই গ্রাফিক্স বা হাই ফ্রেম রেটে খেলতে গেলে ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ দেখা দিতে পারে। সাবওয়ে সার্ফার, ক্যান্ডি ক্রাশ বা লুডুর মতো ক্যাজুয়াল গেমগুলো এতে খুব সুন্দরভাবে চলে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে ফোনটি সামান্য গরম হতে পারে, যা এই বাজেটের ফোনে স্বাভাবিক। ইনফিনিক্স দাবি করেছে যে এই ফোনটি ৪৮ মাসের ফ্লুয়েন্সি পারফর্মেন্স দেবে, অর্থাৎ ৪ বছর পর্যন্ত ফোনটি খুব একটা স্লো হবে না।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ গো এডিশন (Go Edition) ভিত্তিক এক্সওএস ১৪ (XOS 14) ইন্টারফেসে চলে। গো এডিশন হওয়ার কারণে অপারেটিং সিস্টেমটি বেশ হালকা এবং কম র্যাম ও প্রসেসরেও খুব দ্রুত কাজ করে। এক্সওএস ইন্টারফেসে প্রচুর কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে। থিম স্টোর থেকে আপনি পছন্দমতো থিম, ফন্ট এবং ওয়ালপেপার ডাউনলোড করতে পারবেন।
এছাড়াও স্মার্ট প্যানেল, জেশ্চার নেভিগেশন এবং ফোল্যাক্স (Folax) ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো ফিচারগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে। তবে ইনফিনিক্সের ফোনে একটি সাধারণ সমস্যা হলো ব্লোটওয়্যার বা প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ।
ফোনটি প্রথমবার চালু করার পর বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ দেখা যায়, যা মাঝেমধ্যে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে বিরক্ত করতে পারে। তবে এর মধ্যে অনেকগুলো অ্যাপ আনইনস্টল বা ডিসএবল করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ ব্যবহারে সফটওয়্যারটি বেশ স্মুথ এবং রেস্পন্সিভ।
ক্যামেরা সেকশন বাজেট ফোনের ক্যামেরা নিয়ে সাধারণত খুব বেশি উচ্চাশা থাকে না, তবে Infinix Hot 50i এখানে ভালো করার চেষ্টা করেছে। ফোনের পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং একটি সেকেন্ডারি এআই লেন্স। দিনের পর্যাপ্ত আলোতে প্রধান ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশ পরিষ্কার এবং ডিটেইলড হয়।
ইনফিনিক্সের কালার সায়েন্স ছবিগুলোকে কিছুটা বুস্ট করে, ফলে ছবিগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া রেডি মনে হয়। এইচডিআর মোড অন থাকলে ছবির ডাইনামিক রেঞ্জ কিছুটা ভালো পাওয়া যায়। পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার মোটামুটি ভালো কাজ করে। তবে কম আলোতে বা রাতে ছবি তোলার সময় ক্যামেরার দুর্বলতা বোঝা যায়। ছবিতে নয়েজ বা গ্রেইন ভাব থাকে এবং ফোকাস করতে কিছুটা সময় নেয়।
নাইট মোড ব্যবহার করলে ছবি কিছুটা উজ্জ্বল হয়, তবে ডিটেইলস কমে যায়। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ইনফিনিক্সের ফোনে সাধারণত ফ্রন্ট ফ্ল্যাশ থাকে, এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। সামনে ফ্ল্যাশলাইট থাকার কারণে অন্ধকারেও মোটামুটি ভালো সেলফি বা ভিডিও কল করা সম্ভব। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এটি ১০৮০পি বা ২কে রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে, তবে কোনো স্ট্যাবিলাইজেশন নেই।
ব্যাটারি ও চার্জিং ব্যাটারি লাইফের দিক থেকে Infinix Hot 50i একটি নির্ভরযোগ্য ডিভাইস। এতে রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি। এইচডি প্লাস ডিসপ্লে এবং এন্ট্রি লেভেল প্রসেসর হওয়ার কারণে ব্যাটারি খরচ খুব কম হয়। সাধারণ ব্যবহারে এক চার্জে অনায়াসেই দেড় দিন পার করে দেওয়া সম্ভব।
যারা খুব বেশি ফোন ব্যবহার করেন না, তাদের ক্ষেত্রে এটি দুই দিনও যেতে পারে। তবে চার্জিং স্পিড নিয়ে কিছুটা আপস করতে হবে। বক্সে ১৮ ওয়াটের চার্জার দেওয়া হয়েছে। ৫০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মতো সময় লাগতে পারে। বর্তমান ফাস্ট চার্জিংয়ের যুগে এটি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে, তবে টাইপ-সি পোর্ট থাকায় চার্জিং ক্যাবল নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই।
অডিও ও অন্যান্য ফোনটিতে ডুয়েল স্পিকার রয়েছে যা ৩০০% ভলিউম বুস্ট করতে পারে বলে কোম্পানি দাবি করে। স্পিকারের সাউন্ড বেশ লাউড, তবে হাই ভলিউমে কিছুটা নয়েজ বা ডিস্টরশন শোনা যেতে পারে। তবুও এই বাজেটে ডুয়েল স্পিকার পাওয়াটা ইতিবাচক। ৩.৫ মিমি জ্যাক থাকায় আপনি যেকোনো সাধারণ ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
কানেক্টিভিটির জন্য এতে ডুয়েল সিম ৪জি সাপোর্ট, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৫.৩ এবং জিপিএস সুবিধা রয়েছে। কল কোয়ালিটি বেশ পরিষ্কার এবং ভোএলটিই (VoLTE) সাপোর্ট করে। ওটিজি সাপোর্ট থাকায় পেনড্রাইভ কানেক্ট করা যাবে।
সব মিলিয়ে, Infinix Hot 50i তাদের জন্য একটি চমৎকার প্যাকেজ যারা ১৪ হাজার টাকার নিচে একটি ভালো দেখতে এবং স্মুথ ডিসপ্লের ফোন খুঁজছেন। এর ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, ৪৮ মাসের ফ্লুয়েন্সি গ্যারান্টি এবং স্লিম ডিজাইন একে বাজারের অন্যান্য প্রতিযোগী যেমন টেকনো বা রেডমির বাজেট ফোনগুলো থেকে আলাদা করেছে।
যদিও চার্জিং স্পিড ধীর এবং প্রসেসরটি গেমিংয়ের জন্য নয়, তবুও সাধারণ ব্যবহারকারী, শিক্ষার্থী বা বয়স্কদের জন্য এটি একটি ভ্যালু ফর মানি ডিভাইস। যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও দেখা এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির ফোন চান, তারা নিঃসন্দেহে এটি তালিকায় রাখতে পারেন।