তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের ত্রিপুরাভিত্তিক দলে যোগদানের প্রস্তুতি রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে দলত্যাগী এক ঝাঁক সাংসদ এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক দখলের আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে, দেব ও সায়নী ঘোষসহ প্রায় ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই মর্মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে দলটির নতুন কার্যালয় খোলা হবে।
এই ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে লোকসভার স্পিকারের বাসভবনে তড়িঘড়ি উপস্থিত হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ। তারা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো একটি পত্র স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই পত্রে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অবিভাজ্য দল এবং লোকসভার অভ্যন্তরে কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে পৃথক স্বীকৃতি দেওয়া সাংবিধানিক ও নৈতিকভাবে অন্যায়।
সাগরিকা ঘোষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধি অনুযায়ী কোনো সাংসদ দলের প্রতীক ব্যবহার করে জয়ী হওয়ার পর, পরাজয়ের মুখে দল ও আদর্শ ত্যাগ করে ভিন্ন গোষ্ঠী গঠন করতে পারেন না। তিনি এই উদ্যোগকে বিদ্রোহী সাংসদদের নৈতিক দেউলিয়াপনার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং তৃণমূলের মূল প্রতীকের আইনি লড়াই এড়াতে বিদ্রোহী সাংসদরা এই কৌশল গ্রহণ করেছেন। কারণ, একই দলের দুটি পৃথক ব্লক লোকসভায় টিকে থাকা আইনত দুরূহ। পর্যাপ্ত সাংসদ সংখ্যা নিয়ে নতুন দলে যোগদানের মাধ্যমে তাঁরা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেছেন যে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কাউকে দেখা যাবে না বলেই মনে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
