টিআইবির প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন ও পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা না হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরনের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ছাড়াই কেবল সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে টিআইবি তাদের তথ্য উপস্থাপন করে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবকাশ নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

বিজ্ঞাপন

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশংসনীয় অবদান রাখা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ তথা ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে অটল থেকে পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল চাঙ্গা করতে কাজ করে যাচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রদানের এই সংস্কৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের অপরাধ চিত্রের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন যে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিটি সূচকেই ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত নিয়মিত তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক।

পুলিশি তদন্ত ও পোস্টমর্টেমের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বরাদ্দ নিয়ে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, জাতীয় বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রত্যাশিত অর্থের জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে তদন্ত কার্যক্রম ও পুলিশি টহল আরও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত যেকোনো অসঙ্গতিকে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে থাকে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

পলাতক ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অভিযুক্তদের প্রতি বিন্দুমাত্র অনুকম্পা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। আলোচিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইন কিংবা দণ্ডবিধির অধীনে অভিযোগ রয়েছে, তাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অপরাধী পরিচয় নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কিত- টিআইবি
0%
0%
0%
0%