কর্ণফুলী টানেল ব্যবহার করে নগরীতে পানি আনার উদ্যোগ চট্টগ্রাম ওয়াসার

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভাণ্ডালঝুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকলেও, অবশেষে তা নগরীর পানির সংকট নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে কোনো ধরনের সুচিন্তিত সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করায় এর সক্ষমতার ৯৫ শতাংশই এতদিন অব্যবহৃত ছিল। দৈনিক ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও গ্রাহক সংকটের কারণে শোধনাগারটি মাত্র ২৫ লাখ লিটার পানি উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালে এক হাজার ৩৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু হলেও কয়েক দফায় ব্যয় বাড়িয়ে ২০২৩ সাল নাগাদ তা এক হাজার ৯৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকার আবাসিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য থাকলেও, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা এবং আনোয়ারা ইকোনমিক জোন উৎপাদনে না আসায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের এই মেগা প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে মেইনটেনেন্স ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় তিনি ভাণ্ডালঝুড়ি প্রকল্পের পানি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে নগরীতে নিয়ে আসার সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতির আবেদন পাঠিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারার সিইউএফএল পর্যন্ত প্রকল্পের পাইপলাইন প্রস্তুত থাকায় টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করা সহজ হবে। টানেলের পাটাতনের নিচে অবস্থিত এই ডাক্টটি ব্যবহারের মাধ্যমে নদীর ওপার থেকে পানি নগরীতে নিয়ে আসা সম্ভব হলে এটি হবে দেশের প্রথম ঘটনা। এই রুটটি ব্যবহার করা গেলে দীর্ঘদিনের এই অবহেলিত প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পতেঙ্গা এলাকার ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে তীব্র পানি সংকট রয়েছে এবং সেখানে দৈনিক নয় কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। প্রকল্পটির পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পতেঙ্গা এলাকার মানুষের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্য হারে লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম। সেতু মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে এক বছরের মধ্যেই পুরো এলাকাকে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে তারেক রহমান সরকারের অঙ্গীকার পূরণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%