ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ৯২০ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সংঘটিত ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা উপকূলীয় অঞ্চলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণে ত্রাণ তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শুক্রবার রাতে কর্তৃপক্ষ এলাকাটিতে প্রবেশাধিকার কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে সেখানে প্রবেশ করতে হলে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হবে, যদিও এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

দুর্যোগের কবলে পড়া অসহায় মানুষগুলো সরকারি উদ্ধারকারী দলের দেখা না পেয়ে নিজেরাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারের জন্য যে ৭২ ঘণ্টার ‘সোনালী সময়’ থাকে, তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তবে সরকারি বাহিনী লা গুয়াইরায় খাবার ও পানি বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ এই পরিস্থিতিকে একটি বিশাল মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, প্রতিটি জীবন রক্ষা পাওয়া একটি অলৌকিক ঘটনার মতো। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে আসা ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, লা গুয়াইরাকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আহত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দারাই রয়েছেন ২০ লাখ।

ভেনেজুয়েলার বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৬১ জন স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। তবে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না, কারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেকে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%