যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইরানের নীতিনির্ধারকদের সমর্থন সত্ত্বেও খামেনেইর দ্বিধা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত বৈঠকে তেহরানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

সমঝোতা স্মারক নিয়ে তেহরানে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই চুক্তির বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দায়িত্ব গ্রহণের শর্তে এতে সম্মতি দিয়েছেন। খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, তিনি নীতিগতভাবে ভিন্নমত পোষণ করলেও জাতীয় স্বার্থে এই সমঝোতায় সায় দিয়েছেন।

তবে এই সমঝোতা নিয়ে কঠোরপন্থী মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইএনএন-এ কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবিভানের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের পর চ্যানেলটির মহাপরিচালক পদত্যাগ করেন। নাবিভান দাবি করেন, খামেনি মূলত এই যুদ্ধবিরতির বিরোধী ছিলেন এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধাপূরণসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে অটল ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমঝোতা স্মারককে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা বিসর্জন না দেওয়ার জাতির কণ্ঠস্বর। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা ইরানের জাতীয় অধিকার ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের স্বার্থ রক্ষা করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে।

বিভিন্ন সূত্র ও সরকারি ভাষ্যমতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় সব সদস্য এবং সামরিক কমান্ডাররা এই চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। একমাত্র অতি-কট্টরপন্থী নেতা সাঈদ জালিলি এই চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জালিলির ঘনিষ্ঠ আইনপ্রণেতা আমির হোসেন সাবেতি দাবি করেছেন, চুক্তিতে ইরানের জাতীয় স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী জাহাজ চলাচলের বিষয়টি স্বাভাবিক বলে দাবি করছে।

সুইজারল্যান্ডে চলমান বৈঠকে ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর বন্ধ করে আলোচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি দলের বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও রাজপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছে এই গোষ্ঠীগুলো।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%