AdvertisementAdvertisement

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যপদ ত্যাগের হিড়িক বিশ্ববিচার ব্যবস্থায় গভীর সংকটের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদারককারী সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব স্টেট পার্টিস চাদ এবং ভেনিজুয়েলাকে তাদের সদস্যপদ ত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার হেগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই দেশগুলোর প্রস্থান বিশ্বজুড়ে দায়মুক্তির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে চরমভাবে দুর্বল করে দেবে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের যেকোনো অভিযোগ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমানে আইসিসি সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। গত বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশ আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র কূটনৈতিক চাপ ও আইসিসির ক্ষমতা খর্ব করার প্রচেষ্টা বড় ভূমিকা পালন করছে। হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই ট্রাইব্যুনালকে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে ‘সর্বাত্মক’ উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গত ২৭ জুলাই চাদ তাদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে অভিযোগ করে যে, আদালতের কার্যক্রম ভারসাম্যহীন এবং তা প্রধানত আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে। এর তিন দিন আগে ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া জাতিসংঘে ঘোষণা করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নির্দেশনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অটল ও অপরিবর্তনীয়। ভেনিজুয়েলার অভিযোগ, আদালত আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতি ভৌগোলিক বৈষম্য প্রদর্শন করছে।

এর আগে বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারও একই পথে হেঁটে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে রোম সংবিধির নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগে। সদস্য থাকাকালীন দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় না এবং চলমান তদন্তগুলোও বাধাগ্রস্ত হয় না। ফলে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত চলমান থাকবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প প্রশাসনের এই তৎপরতার পেছনে মূল কারণ হলো গাজায় গণহত্যার দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের অপরাধের তদন্ত। চাদের সরকার জানিয়েছে, মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের সাথে সরাসরি কথোপকথনের পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে, প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আদালতকে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে, যার ফলে বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%