ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি গ্রন্থাগার নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে মায়ামিতে মামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের ঘটনায় ফ্লোরিডা রাজ্য ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মায়ামির একদল বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মায়ামি-ডেড কলেজের (এমডিসি) মালিকানাধীন নয় একর জলসীমান্তবর্তী জমি ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস অবৈধভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হস্তান্তর করেছেন। সংবিধানের গার্হস্থ্য পারিতোষিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা অনুযায়ী কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট তাঁর পদ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো লাভ বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না।
ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক কনস্টিটিউশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি সেন্টার (সিএসি) এমডিসি-র একজন শিক্ষার্থী, একটি মায়ামি-ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করেছে। তাদের দাবি, এই জমি এখন এমডিসি-র শিক্ষার্থী সম্প্রদায় ও ডাউনটাউন মায়ামির কাজে আর ব্যবহার করা যাবে না।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এই জমিতে একটি ট্রাম্প হোটেল নির্মিত হবে, যা প্রেসিডেন্টকে বিপুল অর্থ এনে দেবে।
এই বিতর্কিত প্রকল্পের পরিকল্পনা গত মার্চ মাসে প্রকাশ পায়। এটি মায়ামির ঐতিহাসিক ফ্রিডম টাওয়ারের পাশেই নির্মিত হওয়ার কথা। এর সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিশাল সোনালী মূর্তি থাকবে এবং ৫০ তলা ভবনের ভেতরে কাতার কর্তৃক প্রেসিডেন্টকে উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বোয়িং ‘ফ্লাইং প্যালেস’ বিমানটি রাখা হবে, যেটি এখনো চালু হয়নি।
ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ভবনটি সম্ভবত একটি হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
মামলার তথ্যমতে, এই জমির মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার।
সিএসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই জমি ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার থেকে বিরত না রেখে, ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ কেবল ‘প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি, জাদুঘর এবং/অথবা কেন্দ্রের উপাদান’ অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে, যা প্রেসিডেন্টকে সম্পত্তি উন্নয়নে যেকোনো সুযোগ করে দেবে।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে এমডিসি ট্রাস্টি বোর্ডের হস্তক্ষেপে এবং কোনো জন আলোচনা ছাড়াই গোপনে জমিটি রাজ্যকে হস্তান্তরের ঘটনা নিয়েও একটি মামলা হয়েছিল। ডিস্যান্টিস কর্তৃক মনোনীত বেশিরভাগ ট্রাস্টি এই হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তবে, ডিসেম্বরে বোর্ড পুনরায় একটি বৈঠকে বসে এবং সর্বসম্মতভাবে জমি হস্তান্তরের পক্ষে ভোট দেয়।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ট্রাম্প প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন এবং ডিস্যান্টিসের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান