গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার আরও এক সাংবাদিক নিহত

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় আল-জাজিরার আরও এক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার গাজার আল-বুরেজ শরণার্থী শিবিরে এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তরুণ চিত্রগ্রাহক আহমেদ উয়িশাহ। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আল-জাজিরার ১২ জন সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটল। সাংবাদিকদের সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’-এর তথ্যমতে, গত অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, যা গাজাকে বর্তমানে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চলে পরিণত করেছে।

মধ্য গাজার আল-বুরেজ শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণকারী আহমেদ উয়িশাহ আল-জাজিরা মুবাশশের চ্যানেলের চিত্রগ্রাহক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত এপ্রিলে ইসরায়েলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হয়ে নিহত সাংবাদিক মোহাম্মদ উয়িশাহ ছিলেন তাঁর বড় ভাই। দুই ভাই মিলে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন। নিজের ভাইয়ের মৃত্যুর পর আহমেদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, মোহাম্মদ উয়িশাহর শাহাদাত যেন সাংবাদিকদের মৃত্যুর শেষ ঘটনা হয়।

নিহত আহমদের সহকর্মীরা তাঁকে একজন মৃদুভাষী ও নীতিবান মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদক তালাল মাহমুদ জানান, আহমেদ কেবল একজন সহকর্মীই ছিলেন না, বরং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি মানবিকতা বজায় রাখতেন। অপর এক সহকর্মী ও সিজিটিএন-এর আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আল-আখরাস বলেন, আহমেদ সবসময় হাসিখুশি থাকতেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সত্য প্রচারের নেশায় অবিচল ছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে সংবাদকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আহমেদ উয়িশাহকে ‘হামাস সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই আনা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যম নেটওয়ার্কটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং সাংবাদিক হত্যার ন্যায্যতা প্রমাণে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। এটি একটি পরিকল্পিত মানহানির প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

সাংবাদিকদের সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এর আগেও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এমন ভিত্তিহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা ইসরায়েলি বাহিনীর একটি নিয়মিত কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্য প্রকাশের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চালানো এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আল-জাজিরা। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইসরায়েলের এসব অপচেষ্টা বিশ্ববাসীর নজর থেকে সত্যকে আড়াল করতে পারবে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%