Advertisement

কুসরায় অবরুদ্ধ ১৫ ফিলিস্তিনি পরিবার, ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা ইসরায়েলি বাহিনীর

অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা শহরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ১৫ জন ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধে বাড়ি থেকে বের হতে না পারা এই পরিবারগুলোর মধ্যে দুই শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের খাদ্য ও পানীয় সহায়তা পৌঁছাতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়েছেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরা।

ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী আল জাজিরার সাংবাদিক লায়েথ জারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করে শান্তি কর্মী গোষ্ঠী পিস নাউ-এর সদস্যদের প্রবেশ করতে দেয়নি। কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, এর আগে যারা সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদেরও এলাকা ত্যাগে বাধ্য করেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন তিনটি বাড়িতে চরম আতঙ্ক ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অবরুদ্ধ বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের ভাষ্যমতে, বাড়িগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলি বাহিনী নির্দেশ দিলেও বাসিন্দারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, বাড়িগুলো খালি করা হলে বসতি স্থাপনকারীরা সেগুলো দখল করে নিতে পারে। বসতি স্থাপনকারীরা এর আগে বড় বড় পাথর দিয়ে রাস্তা আটকে দিয়েছে এবং কাছাকাছি অস্থায়ী তাঁবু গেড়ে অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। উত্তরের এই শহরটি বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ পশ্চিম তীরের বেসামরিক আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সামরিক বাহিনী থেকে সরিয়ে পুলিশের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইব্রাহিম রাবাইয়ার মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল মাত্র, কারণ ইসরায়েলি পুলিশ মূলত জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যিনি সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের সহায়তা ও অস্ত্র দিয়ে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাবাইয়া সতর্ক করে বলেছেন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিকল্পিত অর্থায়নের মাধ্যমে এমন এক অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%