গাজায় ভয়াবহ শীতের শুরু: বন্যা-ঠাণ্ডায় আশ্রয়হীনদের আর্তনাদ

গাজায় টানা বৃষ্টিপাতে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা আরও চরমে পৌঁছেছে। গাজায় জরুরি সহায়তাকারী সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স -এর জরুরি সমন্বয়কারী ক্যারোলিন সেগুইন আল জাজিরাকে জানান, এখন সেখানে শুকনো জায়গায় রাত কাটানোই এক ধরনের বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেগুইন বলেন, “আমরা গতকাল বুঝতে পারলাম—গাজায় শুকনো স্থানে রাত কাটানো এখন সত্যিকার অর্থেই একটি বিলাসিতা। অনেক মানুষ রাতে বন্যার পানিতে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন; তারা আবার ঘুমাতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছিলেন।”
তিনি আরও জানান, “সব কিছু ভিজে গেছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। এ তো মাত্র শীতের প্রথম দিক—আগামী তিন মাস পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।” বর্তমানে তিনি গাজার উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসিতে অবস্থান করছেন, যেখানে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক।
সাহায্য সরবরাহেও জটিলতা বেড়েছে উল্লেখ করে সেগুইন বলেন, “তাবু, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিস আনতে এখনও প্রচণ্ড জটিলতা রয়েছে। ইসরায়েলি পক্ষের আরও বেশি প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা সময় ও প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, অসংখ্য আহত ও অঙ্গহানি হওয়া মানুষ এখন তাবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। “তাবুর ভেতরে হুইলচেয়ার নড়াচড়া করা প্রায় অসম্ভব। এতে তাদের ক্ষত সংক্রমণের ঝুঁকি ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।”
এছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে সতর্ক করেন সেগুইন। “গত শীতে শিশু বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি ছিল ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। যেগুলো ছিল একেবারে সাধারণ, প্রতিরোধযোগ্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। এ বছর পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
গাজায় বৃষ্টিপাত, ঠাণ্ডা, আশ্রয় সংকট ও চিকিৎসা সেবার অনিশ্চয়তা মিলিয়ে মানবিক পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা