বিচারক নিয়োগে বিলম্ব নিয়ে রিট আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার রায় স্থগিত করল ইসলামাবাদ হাইকোর্ট

দেশের বিভিন্ন উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে বিলম্বের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি আরবাব মুহাম্মদ তাহির এই রিট পিটিশনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।
আইনজীবী লোকমান জাফর চৌধুরী এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকে ১৯ জন অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ এবং পাঁচজন বিচারককে স্থায়ী করার বিষয়ে পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পাঠানো সারসংক্ষেপ দ্রুত অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়ার আরজি জানানো হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবী জাহিদ আসিফ চৌধুরী আদালতে যুক্তি দেন যে, পাকিস্তান জুডিশিয়াল কমিশন গত ২০ ও ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় এই নিয়োগের সুপারিশ করেছিল। তবে ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে সেই সারসংক্ষেপ অনুমোদন করা হয়নি, যা বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করছে।
শুনানিকালে বিচারপতি আরবাব মুহাম্মদ তাহির বারবার জানতে চান যে, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার বিষয়ে আদালতের কোনো রিট জারি করার আইনগত ভিত্তি আছে কি না। তিনি আবেদনকারীর আইনজীবীর কাছে সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় প্রেসিডেন্টের ওপর আদালত কোনো নির্দেশনা দিতে পারে কি না, তার কোনো নজির উপস্থাপন করতে বলেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থাপিত অতীতের রায়ের নজিরগুলো প্রেসিডেন্টের ওপর এমন বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবির সপক্ষে যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা অনেকটা আনুষ্ঠানিক এবং পাকিস্তানর আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষমতা রাখে।
সব পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বর্তমানে বিবাদী পক্ষকে কোনো নোটিশ পাঠানোর আবেদন নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে পিটিশনটি আইনত গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ শেষে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য রায় সংরক্ষণ করেন আদালত।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
