মন্ত্রিপরিষদের সব মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের আহ্বান জানালেন মহসিন নাকভি

পাকিস্তানের ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি দেশের সব কয়টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের জন্য নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে নিরীক্ষা করানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের মান স্বচ্ছভাবে যাচাই করে সেই ফলাফল জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। দুনিয়া নিউজের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করে মহসিন নকভি জানান, পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে তিনি তার কাজের জবাবদিহি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমেই মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা নিরূপণ করা সবচেয়ে যৌক্তিক পদ্ধতি। নিজের মন্ত্রিসভায় উপস্থিতির হার ৭০ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স যাচাইয়ের জন্য যেকোনো স্বাধীন অডিটকে তিনি স্বাগত জানাবেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ৮০ বছর ধরে দেশটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থাটি অকার্যকর হওয়ায় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব মন্তব্যের পেছনে পাকিস্তানর বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকার গঠনের অংশীদার হিসেবে তিনি নিজেই নিজের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তুলবেন না, বরং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ফেডারেল রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার এবং রাজস্ব আদায়ের হার বৃদ্ধির মতো সরকারের অর্জনগুলো তিনি তুলে ধরেন। মহসিন নকভি জোর দিয়ে বলেন, শাসনব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল হাজার গুণ বেশি দৃশ্যমান হতো।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে মতপার্থক্যের গুঞ্জন নাকচ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের সম্পর্কে ফাটলের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি নিয়মিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। পাকিস্তানর বর্তমান জোট সরকার তার সাংবিধানিক মেয়াদ পূরণ করবে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাঁচ বছর পূর্ণ করবেন বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি ইকনোমিক সামিট ২০২৬-এ দেওয়া প্রস্তাব সমর্থন করে মহসিন নকভি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তানের প্রশাসনিক দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন জরুরি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, বিচার ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমেই কেবল একটি কার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
