ইসলামাবাদে নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ক ওআইসির নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু

ইসলামাবাদের জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে আগামী ১২ ও ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওআইসির নবম মন্ত্রী পর্যায়ের নারী সম্মেলন। ‘ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে নারীর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিতে ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে পাকিস্তানর রাজধানীতে সমবেত হয়েছেন। পাকিস্তানর মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা নারী অধিকার ও তাদের মর্যাদা সুসংহত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন পাকিস্তানর আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী সিনেটর আজম নাজির তারার। সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্জিত অগ্রগতির পর্যালোচনা করা, সফল নীতিসমূহ বিনিময় করা এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা। পাকিস্তানর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নারী অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সমন্বিত ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
সম্মেলনে যোগ দিতে আসা প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পাকিস্তানর আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আকিল মালিকসহ দেশটির সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশর নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, সৌদি আরবের ফ্যামিলি অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাইমুনা খলিল আল-খলিল, মিশরীয় ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর উইমেনের প্রেসিডেন্ট আমাল আম্মার, ইরাকের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জয়নব আল-মুল্লা আল-সুলতানি, লিবিয়ার নারী বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী গ্রেবে রান্দা, ইয়েমেনের মন্ত্রী ড. আহেদ মোহাম্মদ জাসুস, নাইজেরিয়ার নারী বিষয়ক মন্ত্রী ইমান সুলাইমান-ইব্রাহিম এবং সোমালিয়ার পরিবার ও মানবাধিকার উন্নয়ন মন্ত্রী খাদিজা মাখজৌমি।
পাকিস্তানর উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়েছেন এবং সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেছেন। এদিকে, এই সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন পাকিস্তানর লিঙ্গ সমতা অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ১৪৮টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানর অবস্থান সবার নিচে, যেখানে লিঙ্গ সমতার হার মাত্র ৫৬.৭ শতাংশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানর কর্মক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের তুলনায় মাসিক মজুরি প্রায় ৩০ শতাংশ কম পেয়ে থাকেন, যা এই সম্মেলনে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
