AdvertisementAdvertisement

ইরান-উত্তেজনার জেরে ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মার্কিন মূল্যস্ফীতি

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ব্যুরো প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক ‘ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়’ (পিসিই) গত এপ্রিল মাসে বার্ষিকভিত্তিতে ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা মার্চ মাসে ছিল ৩.৫ শতাংশ।

মাসিকভিত্তিতে গত এপ্রিল মাসে পিসিই সূচক বেড়েছে ০.৪ শতাংশ, যেখানে মার্চ মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল ০.৭ শতাংশ। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সামগ্রিকভাবে এ সময়ে পণ্যের দাম বেড়েছে ০.৭ শতাংশ। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় পাম্পগুলোতে পেট্রোলের দাম এক লাফেই ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪.৪২ ডলার, যা গত মাসে ছিল ৪.১৭ ডলার এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত শুরুর সময় ছিল ২.৯৮ ডলার।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

খাদ্যপণ্যের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং গত এপ্রিলে খাদ্যের দাম বেড়েছে ০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর একক মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড। এছাড়া আবাসন ও ইউটিলিটি খাতের খরচও ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসে গ্রাহক ব্যয় ১ শতাংশ বাড়ার পর এপ্রিলে তা আরও ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। জীবনযাত্রার এই বাড়তি ব্যয় মেটাতে সাধারণ গ্রাহকদের নিজেদের জমানো সঞ্চয়ে হাত দিতে হচ্ছে, যার ফলে গত মাসে সামগ্রিক সঞ্চয়ের হার কমেছে ২.৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির এই আকস্মিক উথাল-পাথাল পরিস্থিতি ফেডারেল রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী ১৬ ও ১৭ জুন নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রথম নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পিসিই সূচকটিকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ফিচ রেটিংসের মার্কিন অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান ওলু সোনোলা বলেন, মূল্যস্ফীতির এই চিত্র ফেডারেল রিজার্ভের জন্য ক্রমশ একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুদের হার ৩.৫০ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের ঘরেই অপরিবর্তিত রাখতে পারে। মার্কিন আর্থিক খাতের জায়ান্ট জেপিমরগান চেজের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে উল্টো সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারকদের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকেও সুদের হার বাড়ানোর প্রতি ফেডারেল রিজার্ভের স্পষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

তবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির এই নেতিবাচক খবরের মধ্যেও মার্কিন পুঁজিবাজারে এক ধরনের ইতিবাচক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যাহ্নকালীন লেনদেনে প্রযুক্তিভিত্তিক নাসডাক সূচক ০.৬ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচকটি ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। এই অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সার্বিক বিষয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%