বালুচিস্তানে মাঙ্গি বাঁধের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলা, ২৭ নিরাপত্তা সদস্য নিহত ও ১৫ জঙ্গি খতম

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মাঙ্গি ড্যাম চেকপোস্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২৭ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রাদেশিক সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৫ জন সন্ত্রাসীও প্রাণ হারিয়েছে। এই হামলার বিষয়ে প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার আগে গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার পর চেকপোস্টটিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছিল। ৬ জুলাই একজন ডিএসপির নেতৃত্বে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যার থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল ফ্রন্টিয়ার কোরের (এফসি) অবস্থান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ১১টার দিকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর ও এফসিকে জানানো হয়। দিনের বেলায় সরাসরি আক্রমণের পরিবর্তে সন্ত্রাসীরা থেমে থেমে গুলিবর্ষণ করে নিরাপত্তা কর্মীদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে ফেলার কৌশল নেয়। সন্ধ্যার দিকে অধিকাংশ গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেলেও কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান ধরে রেখে বীরত্বের পরিচয় দেন। সহায়তার জন্য এগিয়ে আসা পুলিশের অন্য একটি দলও তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে, পরবর্তীতে এফসি ড্রোন ও মর্টারের সহায়তায় পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
অন্ধকার নেমে আসার পর সন্ত্রাসীরা সরাসরি আক্রমণ শুরু করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। এই প্রতিকূল পরিবেশে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীরা দুটি দলে ভাগ হয়ে পিছু হটার চেষ্টা করেন। ডিএসপির নেতৃত্বাধীন একটি দল নিরাপদে ফিরতে পারলেও ১৮ জন সদস্যের অপর দলটি সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ভূখণ্ড, গভীর গিরিখাত ও পাথুরে ভূমির কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্ধার অভিযানে বেশ বেগ পেতে হয়।
হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কোর প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। সরকারের দাবি, এই এলাকায় যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঘটনায় জড়িয়ে থাকা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও নেতিবাচক বয়ান প্রত্যাখ্যান করে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঙ্গি ড্যাম চেকপোস্টের কর্মীরা তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অসীম সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন।
এদিকে, এই ভয়াবহ হামলার পর পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির কোয়েটা সফর করেছেন। সেখানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ঘোষণা দিয়েছেন যে, দেশে সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। প্রতিটি রক্তবিন্দুর হিসাব নেওয়া হবে এবং পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ