রেকর্ডবুকের পাতা ওলটপালট: প্রভসিমরানের রুদ্রমূর্তিতে দিল্লির পাহাড় ডিঙাল পাঞ্জাব

জ্যোতির্বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য কোনো সংখ্যার মতো স্কোরবোর্ড, আর লক্ষ্য তাড়া করার এক অদম্য জেদ। শনিবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (কোটলা) যা দেখা গেল, তা পুরুষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সফলতম রান তাড়া করার নতুন নজির। দিল্লির দেওয়া ২৬৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংস প্রমাণ করল, ক্রিকেটে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের প্রবেশদ্বারটি খুলে দিলেন ওপেনার প্রভসিমরান সিং।

বিজ্ঞাপন

কেএল রাহুলের রেকর্ড বনাম পাঞ্জাবের পাল্টা জবাব

এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস তুলেছিল রেকর্ড ২৬৪/২। অধিনায়ক কেএল রাহুল একাই খেলেন অপরাজিত ১৫২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। পাঞ্জাবের সামনে লক্ষ্য ছিল আকাশছোঁয়া—প্রতি ওভারে গড়ে ১৩-এর বেশি রান। ২০২৪ সালে কেকেআর-এর বিপক্ষে করা নিজেদেরই সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডটি আজ পাঞ্জাবকে ভাঙতে হতো।

প্রভসিমরানের ‘পেশী স্মৃতি’ ও বিধ্বংসী সূচনা

দুই বছর আগে কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ঠিক যেভাবে ঝড় তুলেছিলেন, আজ যেন ঠিক সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে আনলেন প্রভসিমরান। ২০২৪ সালের সেই ১৮ বলের হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে আজ দিল্লির বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালান তিনি।

আকিব নবী থেকে মুকেশ কুমার—কেউই রেহাই পাননি তাঁর ব্যাট থেকে। মুকেশের ওভারে ড্রাইভ, পুল, স্কুপ থেকে শুরু করে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে মারা ছক্কা—সব মিলিয়ে যেন এক তাণ্ডব চলল কোটলায়। গতির বিরুদ্ধে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল আকাশচুম্বী ($328.57$)। পাওয়ারপ্লে-তে পাঞ্জাব যখন ৯৩ রান তোলে, তখন প্রভসিমরানের অবদান ছিল ২৩ বলে ৭১ রান। তাঁর এই ইনিংসের সৌজন্যেই রিকোয়ার্ড রান রেট ১৩.২৫ থেকে ১০.৬৪-এ নেমে আসে।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যানের বিচারে অনন্য প্রভসিমরান

২৬ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে যখন তিনি ফিরছেন, পাঞ্জাব তখন জয়ের মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। এই মৌসুমে প্রভসিমরান যেন এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন।

  • বর্তমান ফর্ম: ৬ ইনিংসে ২৮৭ রান।
  • গড়: ৫৭.৪।
  • স্ট্রাইক রেট: ১৯২.৬১।
  • বাউন্ডারি শতাংশ: পাওয়ারপ্লে-তে প্রতি ৩ বলে একটি করে বাউন্ডারি মারছেন তিনি, যেখানে টুর্নামেন্টের গড় প্রতি ৪ বলে একটি।

সতীর্থদের প্রশংসা

ম্যাচ শেষে পাঞ্জাবের লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল প্রভসিমরানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন:

“গত দুই বছর ধরে ওকে নেটে বল করছি, সত্যি বলতে প্রভাকে বল করা খুব কঠিন। লোকে ক্লাসেন বা পুরানের কথা বলে, কিন্তু আমি জানি পাওয়ারপ্লে-তে প্রভসিমরান কতটা ভয়ংকর হতে পারে। আর্শদীপ সিংয়ের সাথেও আমি এটা নিয়ে আলোচনা করেছি যে, ও যখন ফর্মে থাকে, তখন বোলারদের কিছুই করার থাকে না।”

প্রভসিমরানের এই উড়ন্ত সূচনার পর শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন মিডল অর্ডারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঞ্জাব কিংস। আইপিএলের ইতিহাসে এই ম্যাচটি কেবল একটি জয় নয়, বরং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিং বিবর্তনের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: ক্রিক বাজ

0%
0%
0%
0%