মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তাপ, মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাল তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে জরুরি টেলিফোনে আলাপ করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইরানের সরকারি এক বিবৃতির বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে জাতিসংঘের সনদ এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরান যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে বদ্ধপরিকর। ওয়াশিংটন যদি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সংঘাতময় নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে গণ্য হবে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তিন সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত ৮ ও ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলায় ইরানের পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এমনকি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলসেতুও হামলার শিকার হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পথকে রুদ্ধ করেছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ পরিচালনা করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে শেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তাদের এই সামরিক অভিযান।
এই সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টায় কিছুটা ধীরস্থির অবস্থানে রয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঐতিহাসিকভাবেই ইরান ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করে আসছে, যা বর্তমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ