গিলগিতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে জনজীবন বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন

পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ডায়ামের জেলার থোর উপত্যকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপত্যকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক ডজন পরিবার। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট হিমবাহ গলা পানি গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন নদী ও জলধারার পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

আকস্মিক বন্যায় উপত্যকার ঘরবাড়ি, ফলের বাগান এবং শত শত একর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। পানির প্রবল তোড়ে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বন্যার স্রোতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল ও বেশ কিছু যানবাহন ভেসে গেছে। দিয়ামের-ভাশা বাঁধ প্রকল্পের কর্মীদের আবাসস্থল ‘ওয়াপদা কলোনি’ এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গিলগিট-বালতিস্তান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (জিবিডিএমএ) সহকারী মহাপরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তাবু, খাদ্যদ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে উপত্যকার প্রধান সড়ক পুনরায় চলাচলের উপযোগী করেছে এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দ্রুত মানবিক সহায়তা, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং চিকিৎসাসেবার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে, পুরো অঞ্চলে অব্যাহত তাপপ্রবাহের ফলে হিমবাহ গলার হার বেড়ে যাওয়ায় নদীগুলোতে পানির স্রোত বাড়ছে। এর প্রভাবে সাদপারা নালায় বন্যা দেখা দেওয়ায় দেওসাই সড়ক বন্ধ হয়ে অসংখ্য পর্যটকবাহী গাড়ি আটকা পড়েছে। এছাড়া ঘিজার জেলার বাদসওয়াত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং হোপার নালায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে ফসল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%